ঢাকার চকবাজারে নার্স নাহিদার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, স্বামীর বিরুদ্ধে বিচার দাবি
চকবাজারে নার্স নাহিদার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

চকবাজারে নার্স নাহিদার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, স্বামীর বিরুদ্ধে বিচার দাবি

রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজার হোসেনী দালান এলাকায় একটি ভাড়া বাসা থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের নার্স নাহিদা আক্তার ববির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ২৯ বছর বয়সী নাহিদার মরদেহ বৃহস্পতিবার রাতে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনার পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ ও পুলিশের তদন্ত

চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, বৃহস্পতিবার রাতে খবর পেয়ে পুলিশ বাসায় ঢুকে নাহিদার মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। প্রতিবেশীদের তথ্য অনুযায়ী, ইফতারের সময় স্বামী ইলিয়াস হোসেন এবং নাহিদার মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে স্বামী বাসা থেকে বের হয়ে যান এবং রাতে ফিরে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।

চকবাজার থানার উপপরিদর্শক মো. কাউছার বলেন, গতকাল রাত ১১টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ নম্বর থেকে খবর পায় পুলিশ। খবর পেয়ে পুলিশ চাঁনখারপুল এলাকায় নাহিদার ভাড়া বাসায় যায়, যেখানে তিনি ছয়তলায় থাকতেন। বাসার ভেতর থেকে ছিটকিনি লাগানো ছিল এবং ডাকাডাকি করে কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। পরে দরজা ভেঙে বাসার ভেতরে ঢোকে পুলিশ এবং শোবার ঘরে নাহিদার নিথর দেহ ঝুলতে দেখা যায়।

নাহিদার চিরকুট ও পরিবারের বক্তব্য

নাহিদা মৃত্যুর আগে একটি চিরকুটে লিখে গেছেন, ‘স্বামী ইলিয়াস এবং তার শ্বশুরবাড়ির লোকদের বিচার করা হোক।’ নাহিদার মামাতো ভাই ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘নাহিদার সঙ্গে স্বামীর দাম্পত্য কলহ চলছিল। স্বামী তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। গত বছর জানুয়ারিতে নাহিদা তার বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন, যার কারণে ইলিয়াস কারাগারে গিয়েছিলেন। মুক্তি পাওয়ার পর আপস-মীমাংসা হলেও গতকাল রাতেও তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়েছে।’

ফরহাদ দাবি করেন, ‘এই মৃত্যুর জন্য স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন দায়ী। আমরা ন্যায্য বিচার চাই।’ পুলিশ জানায়, নাহিদার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দিবাগত রাত পৌনে দুইটার দিকে তার মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয় ময়নাতদন্তের জন্য।