গোয়ালন্দে একসঙ্গে তিন কন্যা সন্তানের জন্ম, আনন্দে মিশেছে ভরণ-পোষণের চিন্তা
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় এক অসাধারণ ঘটনা ঘটেছে, যেখানে গৃহবধূ আরজিনা বেগম (৩০) একসঙ্গে তিনটি কন্যা সন্তান জন্ম দিয়েছেন। ফরিদপুরের আল জারা স্পেশালাইজড হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে এই শিশু তিনটির জন্ম হয়েছে, যা পরিবারে আনন্দের বন্যা বয়ে আনলেও, ভরণ-পোষণের চিন্তায় বাবা-মায়ের কপালে ভাঁজ ফেলেছে।
পরিবারের আনন্দ ও চ্যালেঞ্জ
আরজিনা বেগম গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মসজিদ শেখেরপাড়ার মো. মফিজ মণ্ডলের স্ত্রী। এই দম্পতির আগে থেকে একটি ছয় বছরের ছেলে সন্তান রয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে শিশু তিনটির বাবা মফিজ মণ্ডল এই জন্মের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। একসঙ্গে তিনটি বাচ্চা জন্ম দেওয়ায় হাসপাতালে স্বজন ও উৎসুক জনতা এক নজর দেখতে ভিড় জমিয়েছে। বর্তমানে বাচ্চাসহ আরজিনা বেগম হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে ভর্তি রয়েছেন।
জন্মের বিবরণ ও বর্তমান অবস্থা
মফিজ মণ্ডল জানান, ২ মার্চ সোমবার তার স্ত্রীর প্রসব ব্যথা শুরু হলে তাকে ফরিদপুর আল-জারা স্পেশালাইজড হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। ওই দিনই সিজারিয়ান অপারেশন করা হলে আরজিনা বেগম সম্পূর্ণ সুস্থ-সবল তিনটি ফুটফুটে কন্যা সন্তান জন্ম দেন। বর্তমানে মা ও বাচ্চারা সুস্থ আছেন, তবে এখনো তাদের কোনো নাম রাখা হয়নি। মফিজ মণ্ডল সবার কাছে তার স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য দোয়া চেয়েছেন।
অসচ্ছল পরিবারের সংগ্রাম
মোবাইল ফোনে নবজাতকের মা আরজিনা বেগম বলেন, "মহান আল্লাহ আমাকে একসঙ্গে তিনটি কন্যা সন্তান দিয়েছেন, এতে আমি অনেক খুশি। তবে তিনটি বাচ্চার বুকের দুধে হচ্ছে না। একটু সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা পেলে বাচ্চাদের ভালোভাবে দুধ খাওয়াতে পারতাম। অপারেশন খরচসহ অন্যান্য ব্যয় মেটাতে আমার পরিবার হিমশিম খাচ্ছে।"
শিশুদের পিতা মফিজ মণ্ডলও তার সংগ্রামের কথা শোনান: "আল্লাহু আমাকে একসঙ্গে তিনটি কন্যার পিতা বানিয়েছেন বলে আমি খুবই খুশি। আমি সামান্য একজন কৃষক। কয়েক বছর আগে নদী ভাঙনে সবকিছু হারাই। কৃষিজমিতে কাজ করে কোনোমতে আমার সংসার চলে। অপারেশন, ওষুধ পথ্যসহ সব ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছি। তারপর বাড়িতে যাওয়ার পর শিশুদের নিয়মিত দুধ কেনাসহ অন্যান্য ব্যয় আমি কিভাবে মেটাবেন, এটা ভেবে চিন্তিত হয়ে পড়েছি।"
এই ঘটনা গোয়ালন্দ এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে আনন্দ ও উদ্বেগ পাশাপাশি বিদ্যমান। স্থানীয় সম্প্রদায় ও কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা এই অসচ্ছল পরিবারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
