মায়ের কিডনি দানে বেঁচে গেলেন কৃষ্ণ হাজং, পাশে দাঁড়ালেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী কায়সার কামাল
নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বিজয়পুর এলাকার কৃষ্ণ হাজং (৩৪) প্রায় এক বছর আগে নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগতে শুরু করেন। চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোর পর ধরা পড়ে, তাঁর দুটি কিডনিই সম্পূর্ণরূপে বিকল হয়ে গেছে। পাঁচ সদস্যের পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি কৃষ্ণের জন্য এই সংবাদ ছিল মারাত্মক আঘাত। চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা তো দূরের কথা, পরিবারের জন্য দুই বেলা খাবার জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়েছিল।
মায়ের আত্মত্যাগ ও প্রতিমন্ত্রীর সহায়তা
এই সংকটময় মুহূর্তে কৃষ্ণ হাজংয়ের পাশে দাঁড়ান নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী কায়সার কামাল। তাঁর আত্মীয় অন্তর হাজং গত বছরের ৩ মে ফেসবুকে কৃষ্ণের দুর্দশার কথা পোস্ট করলে, এটি প্রতিমন্ত্রীর নজরে আসে। তিনি দ্রুত লোক পাঠিয়ে কৃষ্ণকে ঢাকায় নিয়ে আসেন এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
তবে ডায়ালাইসিস চিকিৎসায় সন্তোষজনক ফল না পাওয়ায়, কৃষ্ণের মা চারুবালা হাজং (৫৮) একটি সাহসী সিদ্ধান্ত নেন। তিনি নিজের একটি কিডনি ছেলেকে দান করার সিদ্ধান্ত নেন। গত সোমবার সকাল ৯টা থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত অস্ত্রোপচার চলে। কৃষ্ণের স্ত্রী জয়া হাজং জানান, অপারেশনটি সফল হয়েছে এবং মা-ছেলে দুজনই সুস্থ আছেন।
কৃষ্ণ হাজংয়ের জীবনসংগ্রাম
কৃষ্ণ হাজংয়ের পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র। থাকার ঘর ও এক চিলতে জায়গা ছাড়া তাদের আর কোনো সম্পদ নেই। তাঁর বাবা শচীন্দ্র হাজং অন্যের জমিতে কাজ করে সংসার চালাতেন। কৃষ্ণ যখন অষ্টম শ্রেণিতে পড়তেন, তখন বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর থেকেই সংসারের দায়িত্ব কৃষ্ণের কাঁধে চাপে। তিনি বিজয়পুর সাদা মাটির পাহাড় এলাকায় একটি ভ্রাম্যমাণ দোকান দেন এবং সেই আয় দিয়ে দুই বোনের বিয়ে দেন। ছয় বছর আগে শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে বিয়ে করেন কৃষ্ণ। তাঁদের একটি পাঁচ বছরের মেয়ে আছে।
প্রতিমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ
ভূমি প্রতিমন্ত্রী কায়সার কামাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘মা নিজের কিডনি দিয়ে সন্তানের জীবন বাঁচিয়েছেন। এটি সত্যিই বিরল উদাহরণ। প্রার্থনা করি, তাঁরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন। আর আমার রাজনীতি তো জনগণের জন্যই। আমার একটু সহযোগিতায় কৃষ্ণ সুস্থ হয়ে উঠছেন, এটাই আমার আনন্দ।’
বর্তমানে কৃষ্ণ হাজং ও তাঁর মা চারুবালা হাজং রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিসিইউ) চিকিৎসা নিচ্ছেন। ডাক্তারদের মতে, অপারেশনের পর তারা ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। আশা করা হচ্ছে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তারা হাসপাতাল ছাড়তে পারবেন।
