হাটহাজারীতে কোরাল মাছ খেয়ে তাবলিগ জামাতের ১৮ সাথী অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি
চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় একটি উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটেছে। তাবলিগ জামাতের ১৮ জন সাথী কোরাল মাছ খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। সোমবার (২ মার্চ) সকালে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও মদন হাট গ্রীন হেলথ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
স্থানীয় জামাতে তাবলিগের সাথী মোহাম্মদ মোর্শেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার উত্তর মাদার্শা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের হাসান আলী তালুকদার বাড়ি জামে মসজিদে। অসুস্থ সাথীদের মধ্যে রয়েছেন হাফেজ রুহুল আমিন, মো. ইয়াকুব, কবির আহাম্মেদ, ফয়েজ উল্লাহ, আব্দুল গাফফার, মাওলানা শরিফুল ইসলাম, সিফাত হোসেন, আসাদ উল্লাহ, আবিদুল হক, মোহাম্মদ তানভীর, মো. নাজিম, মো. ওমর, আব্দুর রহমান, মোহাম্মদ দুলাল ও জাহিদুল আলম।
মোহাম্মদ মোর্শেদ জানান, তাদের এলাকায় একটি তাবলিগের জামাত এসেছে। তারা গত রোববার হাটহাজারীর ভেতরের বাজার (মাছ বাজার) থেকে একটি বড় কোরাল মাছের অর্ধেক অংশ (৫ কেজি) ক্রয় করেন। ওই রাতে এটি রান্না করে খাওয়ার পর সকল সাথীর ডায়রিয়া, বমি, শরীর ব্যথা ও পেটে জ্বালা-পোড়া শুরু হয়। অবস্থা বেগতিক হয়ে যাওয়ার কারণে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।
চিকিৎসা ও কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাক্তার রুমানা বেগম জানিয়েছেন, বাজার থেকে ক্রয় করে রান্না করা কোরাল মাছ খেয়ে ডায়রিয়া, বমি ও শরীর ব্যথার মতো উপসর্গ নিয়ে তাবলিগ জামাতের বেশ কয়েকজন সাথী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের যথোপযুক্ত চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।
জামাতে তাবলিগের সাথীরা দাবি করেছেন, বাজার থেকে ক্রয় করা কোরাল মাছটিতে অতিরিক্ত মেডিসিন ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে মাছটি রান্না করে খাওয়ার কারণে তাদের সাথী ভাইদের এমন অবস্থা হয়েছে। তবে বর্তমানে তারা আশঙ্কামুক্ত বলে জানানো হয়েছে। বিষয়টি হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মুমিনকে জানানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ঘটনা স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।



