সীতাকুণ্ডের জঙ্গল থেকে গলাকাটা শিশু ইরাকে উদ্ধার, হত্যার চেষ্টার অভিযোগ
সীতাকুণ্ডে গলাকাটা শিশু উদ্ধার, হত্যার চেষ্টার অভিযোগ

সীতাকুণ্ডের জঙ্গল থেকে গলাকাটা শিশু ইরাকে উদ্ধার, হত্যার চেষ্টার অভিযোগ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কের জঙ্গল থেকে গলাকাটা ও রক্তাক্ত অবস্থায় এক শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। আনুমানিক সাত বছর বয়সী শিশুটির নাম ইরা। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। রোববার (১ মার্চ) দুপুর দুইটার দিকে ইকোপার্কের জঙ্গল থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। শিশুটির পুরো শরীর ও পোশাকে রক্তমাখা ছিল।

উদ্ধার প্রক্রিয়া ও শিশুর পরিচয়

হাসপাতালে আনার পর মুমূর্ষু অবস্থায় শিশুটি জানায়, তার নাম ইরা। সে কুমিরা ইউনিয়নের মাস্টার পাড়ার নুর ইসলামের কন্যা। সে মসজিদ্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। ওই এলাকার এক ব্যক্তি তাকে ইকোপার্ক এলাকায় নিয়ে আসেন। ওই ব্যক্তির নাম বলতে না পারলেও তাকে দেখলে চিনবে বলে ইশারায় জানায় ইরা।

স্থানীয় যুবক রবিউল হাসান ও আরিফুল ইসলাম রনি বলেন, "ইকোপার্ক এলাকার প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়কের কাজ করছিলাম আমরা। এসময় স্ক্যাভেটর চালক মাটি কাটার সময় দেখতে পান একটি মেয়ে (শিশু) গলাকাটা ও রক্তাক্ত অবস্থায় জঙ্গল থেকে হেঁটে রাস্তার দিকে আসছে। শিশুটিকে দেখতে পেয়ে চালক আমাদের ডাকেন। পরে তার রক্তাক্ত গলা বেঁধে তাৎক্ষণিক আমাদের একটি ট্রাকে তুলে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসি।"

চিকিৎসা ও পুলিশি তদন্ত

সীতাকুণ্ড স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. ইসরাত জাহান মুহুয়া বলেন, "শিশুটির অবস্থা খুবই খারাপ। তার গলা কাটা। তাকে দ্রুতই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হবে।"

চিকিৎসকের বরাত দিয়ে সীতাকুণ্ড থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, "শিশুটির গলা কেটে তাকে কেউ হত্যা করতে চেয়েছিল। কেউ তাকে ইকোপার্কে বেড়ানোর কথা বলে এনে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করে হয়তো মৃত ভেবে ফেলে যায়। হাসপাতালে আনার পর মেয়েটি অনেক কষ্টে তার নাম পরিচয় জানিয়েছে। পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

এই ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায় ও কর্তৃপক্ষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। শিশু নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে জোরালো পদক্ষেপের দাবি উঠছে। পুলিশের তদন্ত দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। শিশু ইরার স্বাস্থ্য উন্নতির জন্য সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করা হচ্ছে।