ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে স্টিল মিলে বিদ্যুৎস্পর্শে ১৪ বছরের কিশোরের মৃত্যু
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় একটি স্টিল মিলে বিদ্যুৎস্পর্শে রাসেল নামের ১৪ বছরের এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে কোনাপাড়ার স্টিল মিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।
পরিবারের করুন অবস্থা
মৃত রাসেল বরিশালের মুলাদী থানার শোলঘর গ্রামের রহিদুল মৃধার ছেলে। ১২ বছর আগে বাবা মারা যাওয়ার পর তিনি ১৫ বছরের বোন সোনালী ও মা সুমি বেগমকে নিয়ে ডেমরার ১৯/১ মধুবাগ মসজিদ রোডে ৪র্থ তলার একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। নিহতের মা সুমি বেগম বলেন, "আমার ছেলে কোণাপাড়ার একটি স্টিল মিলে কাজ করত। শনিবার দিবাগত রাতে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পর্শ হয়ে মারা যাওয়ার খবর পেয়ে স্টিল মিলে যাই। সেখানে শুনি পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেছে।" ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ ডেমরার ডগাইর বাজার কবরস্থানে রোববার বিকালে দাফন করা হয়েছে।
সুমি বেগম আরও বলেন, "১২ বছর আগে আমার স্বামী মারা যায়। ১ মেয়ে ও ১ ছেলেকে নিয়ে ঢাকায় থাকি। আমি অসুস্থ, ছেলেই সংসার পরিচালনা করত। আজ একমাত্র ছেলে মারা গেছে, আয়ের পথও বন্ধ হয়ে গেছে। এখন আমরা কী করে বাঁচব। কে আমাদের সংসার পরিচালনা করবে।" তিনি অভিযোগ করে বলেন, "আমার ছেলে মারা গেছে স্টিল মিলের পক্ষ থেকে আমাদের সান্ত্বনা দিতে কেউ আসেনি। এমনকি লাশটি বহন করার জন্যও একটি টাকা দেয়নি। আমি আমার ছেলের মৃত্যুর বিচার চাই।"
মিল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
রাসেলের মামা মনির বলেন, "স্টিল মিলে কাজ করা অবস্থায় মিলের শ্রমিক রাসেল মারা গেছেন। মিলের মালিক লাশ দাফনের টাকাটা পর্যন্ত দেয়নি। আমি আমার ভাগিনার মৃত্যুর বিচার চাই।" মৃত রাসেলের বোন সোনালী কাঁদতে কাঁদতে বলেন, "নিষ্ঠুর মিলের মালিক আমার ভাইটির মৃত্যুর পর একটু দেখতেও এলো না।"
এদিকে মিলের জিএম মাকছুদুলের বক্তব্য জানতে মিলে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, "যা কিছু জানতে চান পুলিশের কাছে জানেন।" মিলের মালিক মাকছুদুর রহমান বলেন, "মৃত ব্যক্তি মিলের কর্মচারী নয়। তিনি রাতে চুরি করতে এসে বিদ্যুৎস্পর্শে মারা গেছেন।"
পুলিশের তদন্ত
যাত্রাবাড়ী থানার এসআই নুর হোসেন বলেন, "৯৯৯ নাম্বারের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে স্টিল মিলে গিয়ে দেখি বিদ্যুতের হাইভোল্টেজ তারে জড়িয়ে রাসেলের মরদেহ পড়ে আছে। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।" যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ রাজু বলেন, "ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের লোকজনের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্তসাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এই ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা গভীর শোকে আছেন এবং তারা দ্রুত বিচার চাইছেন। স্থানীয়রা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
