চট্টগ্রামের হালিশহরে গ্যাস বিস্ফোরণে মৃত্যু ৬, তিন শিশু চিকিৎসাধীন
হালিশহরে গ্যাস বিস্ফোরণে ৬ মৃত্যু, তিন শিশু হাসপাতালে

চট্টগ্রামের হালিশহরে গ্যাস বিস্ফোরণ: মৃত্যু ৬, তিন শিশু সংকটাপন্ন অবস্থায়

চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর এলাকায় একটি বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের মর্মান্তিক ঘটনায় শিপন হোসেন (৩০) নামে আরও একজন মারা গেছেন। শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ নিয়ে এই বিস্ফোরণে দগ্ধ ৯ জনের মধ্যে মোট ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা স্থানীয় সম্প্রদায়কে গভীর শোকে নিমজ্জিত করেছে।

শিশুদের মর্মান্তিক অবস্থা: পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুর খবর অজানা

অন্যদিকে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বিস্ফোরণে দগ্ধ তিন শিশু— উম্মে আইমান (১০), তার বোন আয়েশা (৪) ও ফারহান আহমেদ (৬)। এই তিন শিশু এখনও জানে না যে তাদের পরিবারের বাকি সদস্যরা বেঁচে নেই। বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং জানিয়েছেন যে শিপনের ভাই সাখাওয়াত হোসেনের শরীরের ৮২ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল, যা আগেই তার মৃত্যুর কারণ হয়।

ডা. শাওন আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে সাখাওয়াতের মেয়ে উম্মে আয়মান স্নিগ্ধা ৩৮ শতাংশ, ভাইয়ের মেয়ে আয়েশা ৪৫ শতাংশ, এবং ভাইয়ের ছেলে ফারহান আহমেদ আনাস ৩০ শতাংশ দগ্ধ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তাদের সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উম্মে আইমান দগ্ধ ক্ষত নিয়ে শয্যায় কাতরাচ্ছে এবং কিছু সময় পরপর তার মা-বাবাকে দেখার আকুতি জানাচ্ছে, অথচ একই সময়ে দগ্ধ হয়ে তার মা-বাবা ও কিশোর ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে।

বিস্ফোরণের ঘটনা ও তদন্তের অগ্রগতি

গত সোমবার ভোরে হালিশহরের বাসায় এই গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওইদিন সন্ধ্যার দিকে স্বজনরা দগ্ধ ব্যক্তিদেকে বার্ন ইন্সটিটিউটে নিয়ে আসে। বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়েছেন মো. সাখাওয়াত হোসেন, তার স্ত্রী নুরজাহান আক্তার রানী (৪০), ছেলে শাওন, মেয়ে উম্মে আয়মান স্নিগ্ধা, সাখাওয়াতের ছোট ভাই সামির আহমেদ সুমন, স্ত্রী আশুরা আক্তার পাখি, মেয়ে আয়েশা, ছেলে ফারহান আহমেদ আনাস এবং সাখাওয়াতের আরেক ছোট ভাই শিপন হোসেন। পরে আয়মান, আয়েশা এবং ফারহান ছাড়া বাকি ৬ জনের মৃত্যু হয়।

বিস্ফোরণের সুস্পষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি। ঘটনার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে পারেনি। ঘটনার তদন্তে তিনটি কমিটি কাজ করেছে: ফায়ার সার্ভিস, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ও জেলা প্রশাসন পৃথকভাবে এসব তদন্ত কমিটি গঠন করে। ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রামের উপ-সহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘তদন্ত কমিটির কাজ চলছে। প্রতিবেদন পেলে কী কারণে দুর্ঘটনা হয়েছে সেটি নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।’

পরিবারের ট্র্যাজেডি ও সামাজিক প্রভাব

এই ঘটনা শুধু একটি পরিবারকেই নয়, পুরো এলাকাকে শোকস্তব্ধ করে দিয়েছে। শিশুদের অজানা অবস্থায় রাখা হয়েছে, যা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। স্থানীয়রা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানাচ্ছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।