চট্টগ্রামে বিস্ফোরণে ৬ জনের মৃত্যু, তিন শিশু গুরুতর আহত
চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরে এক ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে তিন শিশু গুরুতর দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঘটনাটি গত সোমবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে হালিশহরের হালিমা মঞ্জিল নামের একটি ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে ঘটে।
শিশুদের মর্মান্তিক অবস্থা
১০ বছরের শিশু উম্মে আইমান, ৪ বছরের আয়েশা এবং ৬ বছরের ফারহান আহমেদ—এই তিন শিশু জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তাদের শরীর যথাক্রমে ৩৮ শতাংশ, ৪৫ শতাংশ এবং ৩০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। আহত শিশুরা তাদের মা-বাবা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মৃত্যুর খবর জানে না, এবং তারা নিয়মিত মা-বাবাকে দেখার আকুতি জানাচ্ছে।
বিস্ফোরণে নিহতদের মধ্যে রয়েছেন শাখাওয়াত হোসেন, সামির আহমেদ, শিপন হোসেন এবং তাদের স্ত্রীরা। শিপন হোসেন গত শনিবার সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান, তাঁর শরীরের ৮০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।
ঘটনার বিবরণ ও তদন্ত
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, বাসাটির গ্যাস লাইনে লিকেজ থেকে গ্যাস জমে বিস্ফোরণ ঘটে। তবে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড এই দাবি অস্বীকার করেছে। ঘটনার পাঁচ দিন পরেও বিস্ফোরণের সঠিক কারণ নির্ণয় করা যায়নি।
তদন্তের জন্য ফায়ার সার্ভিস, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি এবং জেলা প্রশাসন পৃথকভাবে তিনটি কমিটি গঠন করেছে। ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রামের উপসহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেন জানান, "তদন্ত কমিটির কাজ চলছে, প্রতিবেদন পেলে কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।"
পরিবারের করুণ গল্প
বিস্ফোরণের সময় ফ্ল্যাটটিতে তিন ভাইয়ের পরিবার বসবাস করছিল। প্রবাসী সামির আহমেদ সম্প্রতি চিকিৎসার জন্য দেশে ফিরে ভাইয়ের বাসায় উঠেছিলেন। দুর্ঘটনায় তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ মোট ৯ জন দগ্ধ হন, যার মধ্যে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
শিশুদের দেখাশোনা করছেন শাখাওয়াত হোসেনের ব্যবসায়িক অংশীদার মনসুর আলী। তিনি বলেন, "তিন শিশুর অবস্থা ভালো নয়, তারা শুধু মা-বাবাকে খোঁজে, পরিবারের বাকিদের মৃত্যুর খবর তাদের জানানো হয়নি।"
এই ঘটনা চট্টগ্রামে গ্যাস নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে, এবং কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত শেষ করে দায়ীদের চিহ্নিত করার আশ্বাস দিয়েছে।
