এসি সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ যুবকের মৃত্যু, বাবা-মা আশঙ্কাজনক অবস্থায়
এসি সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ যুবকের মৃত্যু, বাবা-মা আশঙ্কাজনক

এসি সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ যুবকের মৃত্যু, বাবা-মা আশঙ্কাজনক অবস্থায়

ঢাকার নারিন্দার মৈশুন্ডি এলাকায় একটি বাসায় শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর সৃষ্ট ভয়াবহ আগুনে দগ্ধ মো. সেলিম ব্যাপারী (৩০) জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। গত শুক্রবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় গুরুতরভাবে দগ্ধ তাঁর মা সেলিনা বেগম (৪৫) ও বাবা মুক্তার ব্যাপারী (৫৫) একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের অবস্থা চিকিৎসকদের মতে আশঙ্কাজনক।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র থেকে জানা গেছে, মুক্তার ব্যাপারী সপরিবারে নারিন্দা কাঁচাবাজারের কাছে দক্ষিণ মৈশুন্ডির একটি বাড়ির তৃতীয় তলায় বসবাস করেন। তিনি ফ্রিজ ও এসির ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে তাঁর বাসায় এসিতে ব্যবহৃত একটি গ্যাস সিলিন্ডার হঠাৎ বিস্ফোরিত হয়, যা সঙ্গে সঙ্গেই আগুনের সৃষ্টি করে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো বাসায় ছড়িয়ে পড়ে এবং ধোঁয়ায় এলাকা আচ্ছন্ন হয়ে যায়।

প্রতিবেশীরা দ্রুত সাড়া দিয়ে জানালা ভেঙে বাসায় প্রবেশ করে এবং দগ্ধ মুক্তার ব্যাপারী, তাঁর স্ত্রী সেলিনা বেগম ও তাঁদের একমাত্র সন্তান সেলিমকে উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাত পৌনে ১০টার দিকে সেলিম মারা যান। পরে প্রতিবেশীরা সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাসার আগুন নিভিয়ে ফেলতে সক্ষম হন।

চিকিৎসক ও পুলিশের বক্তব্য

জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন শাওন বিন রহমান জানান, সেলিমের শরীরের ১০০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল, যা তাঁর মৃত্যুর প্রধান কারণ। তাঁর বাবা মুক্তারের শরীরের ২২ শতাংশ এবং মা সেলিনার ২০ শতাংশ পুড়ে গেছে, উভয়েরই অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর ও আশঙ্কাজনক পর্যায়ে রয়েছে।

ওয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মফিজুর রহমানের বর্ণনা অনুযায়ী, মুক্তার ব্যাপারী তাঁর ব্যবসার জন্য ফ্রিজ ও এসির গ্যাস সিলিন্ডার বাসায় এনে রাখতেন। বিস্ফোরণের সময় সিলিন্ডারটি বাসার দেয়াল ভেঙে পাশের একটি টিনশেড বাড়ির ওপর পড়ে, যার ফলে সেখানকার এক নারী আহত হন। এই ঘটনায় পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছে।

এই দুর্ঘটনা গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারে সতর্কতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে, বিশেষ করে আবাসিক এলাকায় এ ধরনের বিপজ্জনক উপকরণ সংরক্ষণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে।