দেবিদ্বারে ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ দিয়ে ২৭ দিনের শিশু অপহরণ, মামলা দায়ের
দেবিদ্বারে ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ দিয়ে শিশু অপহরণ, মামলা

দেবিদ্বারে ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ দিয়ে ২৭ দিনের শিশু অপহরণ, মামলা দায়ের

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় এক মর্মান্তিক ঘটনায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এক মায়ের কাছ থেকে ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ (স্কোপোলামিন) ছড়িয়ে সন্তানকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে। তবে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত অপহরণ হওয়া শিশুটিকে উদ্ধারের কোনো খবর পাওয়া যায়নি, যা স্থানীয় সম্প্রদায়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

বৃহস্পতিবার দুপুর আনুমানিক ১২টার সময় দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় এই শিশু অপহরণের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী আকলিমা আক্তার (২৮) দেবিদ্বার পৌর এলাকার বিনাইপাড় গ্রামের সোনা মিয়ার বাড়ির কামাল হোসেনের স্ত্রী। অপহরণ হওয়া শিশুটি তাদের ২৭ দিন বয়সী কন্যাসন্তান আফসা আক্তার, যা পরিবারের প্রথম সন্তান হিসেবে বিবেচিত।

আকলিমার ভাই শাহনুর আলমের বর্ণনা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুপুরে আকলিমা তার শিশুকন্যাকে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়েছিলেন চিকিৎসার জন্য। সেখানে বসে থাকা ২/৩ জন অপরিচিত ব্যক্তি তাকে বলেছিলেন, ‘এখানে ভালো ডাক্তার নেই। ভালো ডাক্তার দেখাতে হলে আমাদের সঙ্গে আসুন।’ এই প্রলোভনে পড়ে আকলিমা শিশুসহ তাদের অনুসরণ করলে, দুর্বৃত্তরা তাকে হাসপাতাল থেকে বের করে নিয়ে যায়।

‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ ও অপহরণের কৌশল

মহাসড়কে এনে দুর্বৃত্তরা আকলিমার উপর ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ (স্কোপোলামিন) ছড়িয়ে দেয়, যা তাকে অজ্ঞান করে ফেলে। এই সুযোগে তারা শিশুটিকে অপহরণ করে পালিয়ে যায়। পরে ওই দিন বিকেলে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি সংলগ্ন সাবের বাজার এলাকায় আকলিমাকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা জরুরি সেবা নাম্বার ৯৯৯-এ কল দেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আকলিমাকে উদ্ধার করে, কিন্তু শিশুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

মামলা দায়ের ও পুলিশের তদন্ত

ঘটনার পর সেদিন রাতেই কামাল হোসেন দেবিদ্বার থানায় অজ্ঞাতনামা ২/৩ জনকে অভিযুক্ত করে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। দেবিদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, ‘অজ্ঞানপার্টি নাকি অপহরণকারীদের হাতে অপহৃত হয়েছে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। খবর পেয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করা গেলেও শিশুটিকে এখনও পাওয়া যায়নি।’

তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ চেক করা হচ্ছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে দ্রুততম সময়ের মধ্যে শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তারে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পরিবারের পটভূমি ও সামাজিক প্রভাব

কামাল ও আকলিমা দম্পতির এটাই প্রথম সন্তান, যদিও দুজনেরই দ্বিতীয় সংসার। তাদের আগের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে, যা এই ঘটনাকে আরও মর্মান্তিক করে তুলেছে। স্থানীয়রা এই অপহরণকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করছেন।

এই ঘটনা শিশু নিরাপত্তা ও হাসপাতালের আশপাশে অপরাধপ্রবণতা সম্পর্কে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, যা কর্তৃপক্ষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।