বিএনপির ই-হেলথ কার্ডসহ স্বাস্থ্য প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিশেষ সেল গঠন
বিএনপির স্বাস্থ্য প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সেল

বিএনপির স্বাস্থ্য প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিশেষ সেল গঠন

প্রতীকী ছবি। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখিত স্বাস্থ্য খাতের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ১৩ সদস্যের একটি বিশেষ 'সেল' গঠন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার জারি করা একটি সরকারি প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এই সেলটি প্রাথমিকভাবে ৯টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কাজ করবে, যার মধ্যে ই-হেলথ কার্ডের নকশা ও বাস্তবায়ন রোডম্যাপ তৈরি অন্যতম প্রধান উদ্যোগ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার রূপান্তর

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে যে, প্রত্যেক নাগরিককে একটি ইলেকট্রনিক হেলথ (ই-হেলথ) কার্ড প্রদান করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে দেশের যেকোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিকে গেলে চিকিৎসকরা রোগীর পূর্ববর্তী চিকিৎসা ইতিহাস, পরীক্ষার ফলাফল এবং ওষুধের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে দেখতে পারবেন। এই প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন সঠিক চিকিৎসা সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে, যা ভুল চিকিৎসা, ওষুধের পুনরাবৃত্তি এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ হ্রাসে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ সেলটি ই-হেলথ কার্ডের প্রযুক্তিগত কাঠামো ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে মনোনিবেশ করবে।

সেলের অন্যান্য কাজের ক্ষেত্রসমূহ

এই বিশেষ সেলটি ই-হেলথ কার্ড ছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি বিষয়ে কাজ করবে, যা বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ। সেগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:

  • ইলেকট্রনিক রেফারেল পদ্ধতি প্রণয়নের জন্য সুপারিশ তৈরি করা।
  • একটি জেলায় পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন ও সম্প্রসারণ পরিকল্পনা প্রস্তুত করা।
  • সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে চুক্তিভিত্তিক সেবা কাঠামো প্রক্রিয়া প্রণয়ন করা।
  • স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর ব্যবস্থার প্রস্তাব করা।
  • এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ ও প্রশিক্ষণে তদারকি কাঠামো প্রণয়ন করা।
  • স্বাস্থ্যকর্মীর মর্যাদা, নিরাপত্তা, পেশাগত উন্নয়ন ও কাঙ্ক্ষিত পদায়নে নীতিমালার প্রস্তাব করা।
  • অ্যাম্বুলেন্স পুল গঠন ও জিপিএস ট্র্যাকিং ব্যবস্থা প্রবর্তনের নীতিমালা তৈরি করা।
  • ঢাকার সব হাসপাতালে মেডিক্যাল বর্জ্যের নিরাপদ ব্যবস্থাপনা কাঠামো প্রবর্তনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রকল্প প্রণয়ন করা।

এই সেলের মূল দায়িত্ব হবে উল্লিখিত প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের জন্য নীতি, কর্মকৌশল ও প্রকল্প তৈরি করা, যা স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে গতিশীলতা আনতে পারে।

সেলের গঠন ও সদস্যবৃন্দ

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এই বিশেষ সেলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন, অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব সেলের সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন। সেলের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং আরও সাতটি মন্ত্রণালয়ের সচিব অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও বিশ্বব্যাংকের সাবেক জ্যেষ্ঠ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মো. শাকিরুল ইসলাম খানকেও এই কমিটির সদস্য করা হয়েছে, যিনি বর্তমানে জাপানের ঐতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক হিসেবে কর্মরত আছেন। এই বহুমাত্রিক গঠন সেলের কার্যক্রমে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।