ফরিদপুরে কাপড় শুকানোর রশি নিয়ে বিবাদে যুবক নিহত, ভাই আহত
ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট মোল্যাবাড়ী সড়কে শুক্রবার সকালে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। বাড়ির সামনে কাপড় শুকানোর রশি টাঙাতে নিষেধ করায় জুয়েল মোল্যা (৩৬) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এসময় সিঙ্গাপুর প্রবাসী ছোট ভাই সোহেল মোল্যাকেও (২৪) পিটিয়ে আহত করা হয়েছে বলে ভুক্তভোগী পরিবারটি জানিয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের বরাতে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে প্রতিবেশী সরফরাজ শেখের স্ত্রী মনি বেগম জুয়েল মোল্যাদের বাড়ির সামনে কাপড় শুকানোর জন্য রশি টাঙাতে যায়। এসময় জুয়েল মোল্যা দড়ি টাঙাতে নিষেধ করলে দুজনের মধ্যে তর্ক বাধে। একপর্যায়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে জুয়েল ও সোহেলকে এলোপাতাড়ি পেটাতে শুরু করে অভিযুক্তরা। এসময় জুয়েল ও সোহেলের মাও আহত হন।
আহতদের অবস্থা
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত সোহেল ও জুয়েলকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জুয়েলকে মৃত ঘোষণা করেন এবং সোহেলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের পদক্ষেপ
ফরিদপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজমীর হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, জরুরি সেবা নাম্বার ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে ফোর্স পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে। কোতোয়ালী থানার উপ সহকারী পুলিশ পরিদর্শক আসাদুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে এলাকাবাসীর কাছ থেকে ঘটনা জানার চেষ্টা করছিলেন। এসময় অভিযুক্ত সরফরাজ ও তার স্ত্রী পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের আটক করা হয়।
অভিযুক্তদের পরিচয়
আটক দুজন সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। নিহত জুয়েল মোল্যা ও সোহেল মোল্যা ওই এলাকার মৃত মনিরুদ্দিন আনসারির ছেলে। অন্যদিকে অভিযুক্ত সরফরাজের বাড়ি নীলফামারী জেলার সৈয়দপুরে। তারা ওই এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভাঙারির ব্যবসা করে আসছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
