প্রথম আলো ট্রাস্টের মাদকবিরোধী কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে মাদকবিরোধী পরামর্শ সভা নিয়মিত আয়োজন করা হয়ে থাকে। এই কার্যক্রমের অধীনে ২০২২ সালের ২২ অক্টোবর তারিখে রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডি এলাকায় অবস্থিত ডব্লিউভিএ মিলনায়তনে ১৬৩তম পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিভিন্ন হাসপাতালের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের চিকিৎসকরা উপস্থিত থেকে তাদের মূল্যবান পরামর্শ প্রদান করেন।
মাদকাসক্তিকে রোগ হিসেবে চিহ্নিতকরণ
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক নাহিদ মাহজাবিন মোর্শেদ সভায় তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, মাদকাসক্তি কেবলমাত্র একটি সামাজিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি জটিল মানসিক ও শারীরিক রোগ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। তিনি তার আলোচনায় তিনটি প্রধান বিষয়ের ওপর বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন, যা মাদকাসক্তি নিরাময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
সহমর্মিতা ও ভালোবাসার প্রয়োজনীয়তা
প্রথমত, মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে না দেখে একজন রোগী হিসেবে দেখা উচিত। ঘৃণা ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তাদেরকে সমাজ থেকে আরও দূরে ঠেলে দিতে পারে, যা সমস্যাটিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। সহমর্মিতা ও ভালোবাসা প্রদর্শন করা এই প্রক্রিয়ায় একটি অপরিহার্য পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করে।
পরিবারের অত্যাবশ্যকীয় ভূমিকা
দ্বিতীয়ত, একজন মাদকাসক্ত রোগীকে সুস্থ করে তোলার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার পাশাপাশি পরিবারের নিরবিচ্ছিন্ন সমর্থন ও সহযোগিতা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। 'লেগে থাকা' বা ধৈর্য ধারণ করা এই প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ, কারণ সুস্থ হওয়ার পথটি দীর্ঘ ও চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ও অবিচল সমর্থন রোগীর পুনর্বাসনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
ইতিবাচক মানসিকতার গুরুত্ব
তৃতীয়ত, ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে তোলা মাদকাসক্তি নিরাময়ের একটি মৌলিক ভিত্তি হতে পারে। আমরা নিজেরা ভালো থাকার পাশাপাশি অন্যদেরকেও ভালো রাখার মানসিক শক্তি বিকাশ করা এই প্রক্রিয়ায় সহায়ক হতে পারে। ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও আশাবাদী মনোভাব রোগীর সুস্থতায় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারে।
প্রথম আলো ট্রাস্টের এই মাদকবিরোধী কার্যক্রমটি সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি ও মাদকাসক্তি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। নিয়মিত পরামর্শ সভার মাধ্যমে বিশেষজ্ঞদের মতামত ও পরামর্শ সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, যা একটি মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সহায়ক হতে পারে।
