নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে মেয়াদোত্তীর্ণ ইনজেকশন নিয়ে উদ্বেগ
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে মেয়াদোত্তীর্ণ ইনজেকশন

ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ব্যথার দান’ মেডিকেল সেন্টারে মেয়াদোত্তীর্ণ ইনজেকশন পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা সেবার মান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং মেডিকেল সেন্টারের ওষুধ ব্যবস্থাপনা ও তদারকি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

শিক্ষার্থীর অভিযোগ

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের এক শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিতে গিয়ে মেডিকেল সেন্টারের একটি টেবিলে পড়ে থাকা একটি ইনজেকশন দেখতে পান, যার মেয়াদ ২০২৫ সালের জুনে শেষ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি চিকিৎসা নিতে এসে টেবিলের ওপর একটি ইনজেকশন পড়ে থাকতে দেখি। কৌতূহলবশত মেয়াদ যাচাই করে দেখি সেটির মেয়াদ ২০২৫ সালের জুনেই শেষ হয়ে গেছে। এটি দেখে আমি আতঙ্কিত হয়ে পড়ি, কারণ এমন মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বা ইনজেকশন ব্যবহার হলে শিক্ষার্থীদের জন্য তা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি আমি সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাই এবং এ ধরনের অবহেলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।’

মেডিকেল অফিসারের বক্তব্য

এ বিষয়ে ‘ব্যথার দান’ মেডিকেল সেন্টারের অতিরিক্ত চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. হেলাল দৈনিক যুগান্তরকে বলেন, ‘আমি অসুস্থতার কারণে আজ অফিসে আসিনি। মেয়াদোত্তীর্ণ ইনজেকশনটি কিভাবে সেখানে এলো, তা খতিয়ে দেখা হবে। অনেক সময় মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে সেগুলো আলাদা করে সংরক্ষণ বা অপসারণের প্রক্রিয়ায় ত্রুটি হতে পারে।’ ৮ মাস আগে মেয়াদ শেষ হওয়া ইনজেকশন এখনো কেন অপসারণ করা হয়নি—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি রোববার অফিসে এসে বিষয়টি দেখব। তবে এটি ব্যবহার করা হয়নি, শুধু সংরক্ষণে ত্রুটি থাকতে পারে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছি এবং ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা না ঘটে, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শিক্ষার্থীদের অন্যান্য অভিযোগ

মেডিকেল সেন্টারের অব্যবস্থাপনার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সেখানে প্রয়োজনীয় ওষুধের ঘাটতি রয়েছে এবং অনেক সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক উপস্থিত থাকেন না। ফলে শিক্ষার্থীদের বাইরের ক্লিনিক বা হাসপাতালে যেতে বাধ্য হতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মহসিন হক শাহ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব মেডিকেল সেন্টার থাকা সত্ত্বেও ঠিকমতো চিকিৎসা পাওয়া যায় না। সামান্য অসুস্থ হলেও আমাদের ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হয়। জরুরি পরিস্থিতিতে অ্যাম্বুলেন্স ডাকলেও সময়মতো পাওয়া যায় না। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।’

দীর্ঘদিনের সমস্যা

প্রায় ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর জন্য পরিচালিত এই মেডিকেল সেন্টারটি দীর্ঘদিন ধরেই জনবল সংকট ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে সমালোচিত হয়ে আসছে। শিক্ষার্থীরা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে একটি মানসম্মত ও নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।