টেন্ডার দ্বন্দ্বে ক্যান্সার হাসপাতালের উপ-পরিচালকের ওপর হামলা: র‍্যাব গ্রেফতার করেছে পাঁচ ভাড়াটে সন্ত্রাসী
টেন্ডার দ্বন্দ্বে ডাক্তারের ওপর হামলা: র‍্যাব গ্রেফতার করেছে পাঁচজন

রাজধানীর মহাখালী এলাকায় জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আহমদ হোসেনের ওপর ছুরিকাঘাতের ঘটনায় জড়িত পাঁচ ভাড়াটে সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড ইন্তেখাব চৌধুরী মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর কাওরান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

টেন্ডার দ্বন্দ্বের পটভূমি

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতালের একটি টেন্ডারকে কেন্দ্র করে দুটি গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এই দ্বন্দ্বের জেরেই ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের দিয়ে হাসপাতালের উপ-পরিচালককে ভয় দেখানোর জন্য হামলা চালানো হয়। র‍্যাবের মতে, হামলার পেছনে কোনও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।

গ্রুপ ও মূল পরিকল্পনাকারী

সংবাদ সম্মেলনে ইন্তেখাব চৌধুরী উল্লেখ করেন, টেন্ডার বিরোধে জড়িত দুটি গ্রুপ হলো ‘রুবেলের ইএমই ট্রেডার্স’ এবং ‘মোনায়েম গ্রুপ’। এর মধ্যে রুবেল নামের একজন মালয়েশিয়ায় অবস্থান করে এই হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। দেশে থাকা তার সহযোগীরা মাত্র ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের দিয়ে এই হামলা চালায়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের পরিচয়

র‍্যাব-১ ও সদর দফতরের গোয়েন্দা শাখার যৌথ অভিযানে রাজধানীর দক্ষিণ খানসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন:

  • শরিফুল আলম করিম
  • আমিনুল ইসলাম কালু
  • সালাউদ্দিন বদি
  • সাজ্জাদ
  • আরিফুজ্জামান

তাদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হামলার বিস্তারিত ও চিকিৎসা

হামলায় ডা. আহমদ হোসেনের হাত ও পিঠে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। র‍্যাব কর্মকর্তারা জানান, হামলার ধরন দেখে এটি হত্যার উদ্দেশে নয়, বরং ভয়ভীতি প্রদর্শনের জন্য করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ

ঘটনার পরপরই গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে র‍্যাব অভিযান চালায়। ভুক্তভোগী চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়, যা তদন্তে সহায়ক হয়েছে। হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বাদী হয়ে রাজধানীর বনানী থানায় অজ্ঞাত ৮-১০ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন।

ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

উইং কমান্ডার ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, ঘটনার পেছনে থাকা মূল পরিকল্পনাকারী বিদেশে অবস্থান করলেও তাকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। র‍্যাব দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকাকে তুলে ধরে।