আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যু: তদন্তে নির্মাণ ত্রুটি ও ব্যবস্থাপনা সংকটের তথ্য
আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যু: তদন্তে নির্মাণ ত্রুটি

রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে গত বুধবার (২৭ মে) একসঙ্গে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে পুলিশ, সিআইডি ও ফায়ার সার্ভিস। এরই মধ্যে হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ও পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে গুরুতর নির্মাণ-ত্রুটি ও ব্যবস্থাপনা সংকটের প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। সংস্থাটির তদন্ত প্রতিবেদন শনিবার (৩০ মে) জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে, এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং দেশের সব হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

তদন্তের অগ্রগতি

রমনা থানায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম শুক্রবার (২৯ মে) জানান, মামলা হওয়ার পর তদন্তে এখনও বড় ধরনের অগ্রগতি হয়নি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাসপাতালের কয়েকজনকে ডাকা হলেও কাউকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়নি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি বলেন, “ঘটনার পর সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। সেগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।”

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, ঘটনার সময় পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডের এসি সিস্টেমে ত্রুটি দেখা দেয় এবং সেখান থেকে গ্যাস লিকেজ হয়। এর পরপরই চিকিৎসাধীন ১ থেকে ২ দিন বয়সী নবজাতকদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। ওই ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের পাশাপাশি ১১ জন মা চিকিৎসাধীন ছিলেন।

তবে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্র বলছে, ঘটনাস্থলে প্রবেশের পর কক্ষে অস্বাভাবিক ও তীব্র দুর্গন্ধ পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি সংবেদনশীল পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে এমন পরিবেশ হাসপাতালের রক্ষণাবেক্ষণ ও স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থাপনায় গুরুতর ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা

ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, এসি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে কক্ষে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি কক্ষের ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত রোগী থাকায় বায়ু চলাচল ব্যাহত হয়েছিল বলেও মনে করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তদন্তে ‘নির্মাণ ত্রুটি’

ঘটনাটি তদন্তে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। শুক্রবার (২৯ মে) স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. জাহিদ রায়হান জানান, হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে কিছু নির্মাণগত ত্রুটি পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, “এসব ত্রুটি নবজাতকদের চিকিৎসা পরিবেশে কোনও প্রভাব ফেলেছিল কিনা, তা তদন্ত প্রতিবেদনে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে। অক্সিজেনের সরবরাহব্যবস্থা, বায়ু চলাচল, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখা হয়েছে। পাশাপাশি দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ ও ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় সুপারিশও থাকবে।”

লিগ্যাল নোটিশ

ছয় শিশুমৃত্যুর ঘটনায় শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক এবং আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পরিচালকের কাছে আইনি নোটিশ পাঠান।

নোটিশে অভিযোগ করা হয়, গভীর রাতে নবজাতকদের মধ্যে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট, বমি ও শারীরিক জটিলতা দেখা দিলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পর্যাপ্ত জরুরি চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়। এছাড়া সংকটাপন্ন শিশুদের উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে স্থানান্তরেও বিলম্ব হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

নোটিশে চার দফা দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলো হচ্ছে, ঘটনায় দায়ীদের চিহ্নিত করে বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে কার্যকর ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া। সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতালের মাতৃত্ব ও নবজাতক ওয়ার্ডে জরুরি চিকিৎসা সাড়া ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর নির্দেশিকা প্রণয়ন। হাসপাতালগুলোর নিরাপত্তা ও সেবার মান তদারকিতে নিয়মিত মনিটরিং কমিটি গঠন।

নোটিশে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে জনসাধারণকে অবহিত করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।