প্রিডায়াবেটিস বর্তমানে একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ মানুষ এই ঝুঁকিতে রয়েছেন। সঠিক ব্যবস্থা না নিলে এটি টাইপ-২ ডায়াবেটিসে রূপ নিতে পারে, যা হৃদরোগ, স্নায়ু ক্ষতি ও দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের মতো জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
গবেষণার ফলাফল
টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জামা নেটওয়ার্ক ওপেন-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখিয়েছেন, উচ্চমাত্রার ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট নির্দিষ্ট কিছু প্রাপ্তবয়স্কের ডায়াবেটিস ঝুঁকি কমাতে পারে। তারা ‘ডিটুডি’ ট্রায়ালের তথ্য পুনর্বিশ্লেষণ করে ২,০৯৮ জনের ডিএনএ পরীক্ষা করেন। অংশগ্রহণকারীদের একটি দল প্রতিদিন ৪,০০০ আইইউ ভিটামিন ডি গ্রহণ করেন, অন্যদল প্লাসেবো নেন—প্রায় আড়াই বছর ধরে।
গবেষণায় দেখা যায়, যাদের ভিটামিন ডি রিসেপ্টর জিনের নির্দিষ্ট ভ্যারিয়েন্ট রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ভিটামিন ডি গ্রহণে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি প্রায় ১৯% কমেছে। প্রায় ৭০% মানুষের মধ্যে এই জিন ভ্যারিয়েন্ট বিদ্যমান। অন্যদিকে, যাদের এএ ভ্যারিয়েন্ট আছে, তাদের ক্ষেত্রে এই উপকার পাওয়া যায়নি।
ভিটামিন ডির ভূমিকা
ভিটামিন ডি শরীরের কোষকে ইনসুলিনের প্রতি সাড়া দিতে সাহায্য করে। অগ্ন্যাশয়ের কোষে ভিডিআর প্রোটিন সক্রিয় ভিটামিন ডির সঙ্গে যুক্ত হয়। জিনগত পার্থক্যের কারণে এই প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা ভিন্ন হতে পারে, যা ব্যাখ্যা করে কেন কিছু মানুষের জন্য সাপ্লিমেন্ট কার্যকর হয়, অন্যদের জন্য নয়।
সতর্কতা ও পরামর্শ
গবেষণায় ব্যবহৃত ভিটামিন ডির মাত্রা (৪,০০০ আইইউ) সাধারণ নির্দেশনার (৬০০-৮০০ আইইউ) তুলনায় অনেক বেশি হলেও ট্রায়ালে বড় কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। তবে বিশেষজ্ঞরা নিজে থেকে উচ্চমাত্রার ভিটামিন ডি না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। গবেষক ডসন হিউজেস বলেন, ভবিষ্যতে একটি সহজ জেনেটিক টেস্টের মাধ্যমে বোঝা যাবে কারা সবচেয়ে বেশি উপকার পাবেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস প্রতিরোধে এখনও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ অপরিহার্য। তবে জেনেটিকভাবে ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য এই গবেষণা নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে—সঠিকভাবে ব্যবহৃত হলে ভিটামিন ডি একটি সহজ প্রতিরোধমূলক উপায় হতে পারে।



