ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য আম খাওয়ার সঠিক নিয়ম ও সতর্কতা
ডায়াবেটিস রোগীদের আম খাওয়ার সঠিক নিয়ম ও সতর্কতা

গ্রীষ্মকালের জনপ্রিয় ফল আম। কিন্তু ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য আম খাওয়া নিয়ে অনেকেরই দ্বিধা থাকে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ডায়াবেটিস রোগীরা সম্পূর্ণরূপে আম বাদ না দিয়ে পরিমিত পরিমাণে খেতে পারেন। আসলে আম ডায়াবেটিসের জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ নয়। আমে প্রাকৃতিক শর্করা থাকলেও এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার বা আঁশ এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে, যা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এমনকি এটি ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতেও সাহায্য করতে পারে।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য আম খাওয়ার সঠিক পরিমাণ

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত একজন ব্যক্তি প্রতিদিন মাঝারি আকারের একটি ছোট আম বা ৫০ থেকে ৬০ গ্রামের মতো পাকা আম খেতে পারেন। এই পরিমাণ রক্তে শর্করার মাত্রা অত্যধিক বাড়িয়ে দেয় না। তবে ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা ও সুগারের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে এই পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে। তাই নিজের জন্য নিরাপদ পরিমাণ নির্ধারণে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

আম খাওয়ার সঠিক সময়

আম খাওয়ার সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সঠিক সময় নির্বাচন। খালি পেটে বা ভারি খাবারের পর মিষ্টি আম খাওয়া এড়িয়ে চলতে হবে। সকালের নাশতা ও দুপুরের খাবারের মাঝামাঝি সময়ে আম খাওয়া সবচেয়ে ভালো। এ সময় রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আমের সঙ্গে কী খাবেন

আম খাওয়ার সময় রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত বেড়ে যাওয়া রোধ করতে এর সঙ্গে কিছু স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে পারেন। যেমন— কাঠবাদাম, শসা বা স্প্রাউট। এসব খাবারে থাকা ফাইবার ও প্রোটিন শর্করা শোষণ ধীর করে এবং রক্তে সুগারের মাত্রা স্থিতিশীল রাখে।

আমের জুস বা ডেজার্ট এড়িয়ে চলুন

পাকা আমের জুস, পুডিং বা ডেজার্ট বানিয়ে না খেয়ে বরং সরাসরি ফল হিসেবে টুকরো করে খাওয়া বেশি উপকারী। জুস করলে ফাইবার নষ্ট হয়ে যায় এবং শর্করা দ্রুত রক্তে শোষিত হয়, যা সুগার বাড়িয়ে দিতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শর্করা সমন্বয়

যেদিন আম খাওয়ার পরিকল্পনা করবেন, সেদিন সকালের নাশতা বা দুপুরের খাবারে ভাত বা রুটির পরিমাণ কিছুটা কমিয়ে দেওয়া উচিত। এভাবে মোট শর্করা গ্রহণের ভারসাম্য বজায় রাখা যায়।

দ্রষ্টব্য: আপনার শারীরিক অবস্থা ও সুগারের মাত্রা অনুযায়ী আম খাওয়ার নিরাপদ পরিমাণ সম্পর্কে জানতে সবসময় আপনার চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।