শিশুদের স্কুল ভীতি মোকাবিলায় অভিভাবকের ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা
প্রথম আলো ট্রাস্টের আয়োজনে অনলাইনে মাদকবিরোধী পরামর্শ সভার ১৭৪তম আসর সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি তারিখে আয়োজিত এই সভায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের মনোবিদ ডা. রাহেনুল ইসলাম। তিনি 'শিশুদের স্কুল ভীতি: অভিভাবকের করণীয়' শীর্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া কেন জরুরি?
আলোচনা চলাকালে একটি প্রশ্ন উঠে আসে যে, বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়াটা কখন দরকার এবং এ সম্পর্কে অভিভাবকদের সব সময় জানা থাকা উচিত কি না। এই প্রশ্নের উত্তরে ডা. রাহেনুল ইসলাম একটি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনকারী বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, 'উচিত বলে বলবো কি? আমরা থাকতে বাধ্য। উচিত শব্দটা বললে কিন্তু একটা স্পেস থাকে যে বোধহয় না থাকলে হবে। আমি এটা ব্যবহার করতে চাচ্ছি আমাদের এটা অবশ্য পালনীয় কর্তব্য। এখান থেকে আমাদের পালানোর সুযোগ নেই।'
মনোবিদ ইসলাম আরও ব্যাখ্যা করে বলেন, 'এই শিশুরা একদিন আমাদের চিকিৎসা করবে, ডাক্তার হবে, ইঞ্জিনিয়ার হবে, নতুন কিছু আবিষ্কার করবে। অতএব, আমাদের এটা উচিতের বদলে আমরা এটাকে অবশ্য পালনীয় কর্তব্য হিসেবে ধরি। সময় আমাদের কাঁধে দায়িত্বটা চাপিয়ে দিয়েছে, আমাদের এটি এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।'
অভিভাবকদের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ
ডা. রাহেনুল ইসলামের আলোচনা থেকে শিশুদের স্কুল ভীতি মোকাবিলায় অভিভাবকদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ উঠে এসেছে:
- শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা
- প্রয়োজনে মনোবিদ বা বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া
- শিশুর সাথে খোলামেলা আলোচনা করা
- স্কুল পরিবেশ সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করা
প্রথম আলো ট্রাস্টের এই মাদকবিরোধী পরামর্শ সভা সিরিজের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মাদকবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে এই ধরনের আলোচনা শিশু ও যুবকদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।



