সরকারি ডাক্তারের বাইরে চেম্বার চালালে লাইসেন্স বাতিলের হুঁশিয়ারি
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সর্দার মো. সাখাওয়াত হোসেন বৃহস্পতিবার সতর্ক করে দিয়েছেন যে, দাপ্তরিক সময়ে বাইরে রোগী দেখতে গেলে যে কোনো সরকারি ডাক্তারের লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করা হবে। তিনি এ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বর্তমান বিষয়ক ব্রিফিংয়ে। একটি সরকারি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
শেরপুরের ডাক্তারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
মন্ত্রী জানান, শেরপুরের ২৫০ শয্যার জেলা সদর হাসপাতালের ডাক্তার রাজেশ মজুমদারকে বুধবার মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছে। তিনি দাপ্তরিক সময়ে স্থানীয় মডার্ন সিটি হাসপাতালে একটি বেসরকারি চেম্বারে রোগী দেখছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এই ডাক্তারকে চাকরি থেকে স্থগিত করা হবে এবং যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে একটি বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হবে। তার পেশাগত নিবন্ধন স্থগিত করার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
অন্যান্য ডাক্তারদের জন্য শিক্ষণীয় ঘটনা
মন্ত্রী অন্যান্য ডাক্তারদের এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি যোগ করেন, শেরপুরের মডার্ন সিটি হাসপাতালের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশব্যাপী গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হচ্ছে যাতে সরকারি ওষুধ জনগণের কাছে পৌঁছায় এবং ডাক্তাররা তাদের কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন।
ভবিষ্যতের জন্য কঠোর সতর্কতা
তিনি সতর্ক করে দেন যে, ভবিষ্যতে যদি কোনো সরকারি ডাক্তারকে দাপ্তরিক সময়ে অনুপস্থিত পাওয়া যায়, তাহলে তাদের লাইসেন্স স্থগিত করা হবে এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই পদক্ষেপ স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে নতুন পদায়ন
মন্ত্রী আরও জানান, স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নের জন্য সরকার প্রায় ১,০০,০০০ ফিল্ড-লেভেল স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করছে। এই পদগুলোর মধ্যে রয়েছে ধাত্রী, ফার্মাসিস্ট এবং প্রযুক্তিবিদ। তিনি উল্লেখ করেন, এই নিয়োগের ৮০ শতাংশই হবে নারী। এই উদ্যোগ গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার প্রসার ঘটাতে সাহায্য করবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
এই সভায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন, যারা বিভিন্ন স্বাস্থ্য বিষয়ক নীতিমালা নিয়ে আলোচনা করেন। মন্ত্রী শেষে বলেন, সরকারি ডাক্তারদের নৈতিক দায়িত্ব পালন করা উচিত এবং জনগণের স্বাস্থ্যসেবায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।
