মাদকাসক্তকে ভালোবাসা ও আন্তরিকতায় ফিরিয়ে আনুন: ফাতিমা মারিয়া খানের পরামর্শ
মাদকাসক্তকে ভালোবাসা ও আন্তরিকতায় ফিরিয়ে আনুন

মাদকাসক্তকে ভালোবাসা ও আন্তরিকতায় ফিরিয়ে আনুন: ফাতিমা মারিয়া খানের পরামর্শ

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ফাতিমা মারিয়া খান মাদকবিরোধী একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ সভায় অংশগ্রহণ করেছেন। প্রথম আলো ট্রাস্টের আয়োজনে মাদকবিরোধী পরামর্শ সভার আওতায় ২০২২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর ধানমন্ডির ডব্লিউভিএ মিলনায়তনে ১৬২তম পরামর্শ সভার আয়োজন করা হয়েছিল। এই সভায় উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন মনোরোগ বিশেষজ্ঞগণ, যারা মাদকাসক্তি ও এর সামাজিক প্রভাব নিয়ে গভীর আলোচনা করেন।

মাদক ও মাদকাসক্তির ভয়ঙ্কর প্রভাব

সভায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ফাতিমা মারিয়া খান তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, 'মাদক ও মাদকাসক্ত উভয়ই ভয়ঙ্কর এবং সমাজের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।' তিনি বিশেষভাবে জোর দেন যে, মাদকের প্রভাবে পারিবারিক নির্যাতন প্রচুর পরিমাণে ঘটে থাকে, যা পরিবারের সদস্যদের মানসিক ও শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

আন্তরিকতা ও ভালোবাসার মাধ্যমে পুনর্বাসন

ফাতিমা মারিয়া খান আরও বলেন, 'মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে ঘৃণা না করে, তাকে ভালোবাসা ও আন্তরিকতার মাধ্যমে ভুল পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে কাজ করতে হবে। তাকে দূরে ঠেলে দেওয়া যাবে না, কারণ এটি পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলতে পারে।' তার মতে, চিকিৎসার পাশাপাশি আন্তরিকতা ও ভালোবাসা প্রদান করলে একজন মাদকাসক্তকে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করা সম্ভব।

তিনি সতর্ক করে দেন যে, অন্যথায়, এই বিচ্ছিন্নতা তাদেরকে আরও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে দিতে পারে, যা সামগ্রিকভাবে সমাজের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করে। তাই, পরিবার ও সমাজের উচিত মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের সহানুভূতি ও সমর্থন দেওয়া, যাতে তারা পুনরায় সুস্থ জীবনে ফিরে আসতে পারে।

মাদকবিরোধী আন্দোলনের গুরুত্ব

এই সভাটি মাদকবিরোধী আন্দোলনের একটি অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়, যা মাদককে 'না' বলার বার্তা ছড়িয়ে দিতে কাজ করে। আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস ও অন্যান্য সচেতনতা কর্মসূচির মাধ্যমে প্রথম আলো ট্রাস্ট সহ বিভিন্ন সংস্থা মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। ফাতিমা মারিয়া খানের মতো বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ এই আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করছে, যাতে একটি মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা যায়।