সিলেটে হামে আরও দুই শিশুর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা ২৬
সিলেটে হামে আরও দুই শিশুর মৃত্যু, মোট ২৬

সিলেট বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১০ মে) সকালে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মৃত শিশুদের পরিচয়

মৃত দুই শিশুর মধ্যে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মিজানুর রহমানের নয় মাস বয়সি ছেলে আকরামুল ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ইমরান মিয়ার আট মাস বয়সি ছেলে সাইফান শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে মারা যায়।

হাসপাতালে চাপ

আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় সিলেটের হাসপাতালগুলোতে তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ১০০ শয্যার ‘হাম ডেডিকেটেড’ শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে রোববার সকাল পর্যন্ত ১১৪ জন শিশু ভর্তি ছিল। ফলে একাধিক শিশুকে এক বেডে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শনাক্ত ও চিকিৎসা

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো রোগী শনাক্ত না হলেও এখন পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষায় ১৪২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। তবে সিলেটে ল্যাব পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ সুবিধা না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে উপসর্গ দেখেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সংকটাপন্ন রোগীদের নমুনা ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে।

নতুন ভর্তি

একই সময়ে রোববার ২৪ ঘণ্টায় আরও ১২২ শিশু নতুন করে উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সর্বাধিক ৫৪ জন ভর্তি হয়েছে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে। এছাড়া সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৩৪ জন এবং ছাতক, মৌলভীবাজার, দিরাইসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বেসরকারি হাসপাতালে বাকিরা চিকিৎসাধীন রয়েছে।

মোট ভর্তি রোগী

বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে মোট ২৬৮ জন রোগী ভর্তি আছে, যার মধ্যে ১১৮ জনই শামসুদ্দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিস্থিতি মোকাবিলা

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বাস্থ্য বিভাগ মাঠপর্যায়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বিয়ানীবাজার, ফেঞ্চুগঞ্জ ও শান্তিগঞ্জসহ বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকা থেকে নতুন রোগী আসার হার বাড়ছে বলে জানানো হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে চিকিৎসার পাশাপাশি টিকাদান কর্মসূচি ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।