পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে এবার রাজধানীতে মোট ২৬টি কোরবানির পশুর হাট বসবে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ১৩টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় ১৩টি হাট স্থাপন করা হবে। ইতোমধ্যে এসব হাটের অধিকাংশের ইজারা দেওয়া হয়েছে।
হাট চলবে পাঁচ দিন
জানা যায়, ঈদুল আজহার ঘোষিত দিনসহ মোট পাঁচ দিন এসব হাটে কোরবানির পশু কেনাবেচা চলবে। যদিও বরাবরই ইজারাদাররা এই শর্ত উপেক্ষা করে নির্ধারিত সময়ের অন্তত চার থেকে পাঁচ দিন আগে থেকেই হাটে পশু বেচাবিক্রি শুরু করে দেয়।
ডিএসসিসির এলাকায় অস্থায়ী হাটের তালিকা
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় অস্থায়ী পশুর হাট বসবে ১২টি। সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, এসব অস্থায়ী হাট নগরীর বিভিন্ন মাঠ, খালি জায়গা ও সড়কের ওপর বসবে। পুরান ঢাকার পোস্তগোলা শ্মশানঘাটের পশ্চিম পাশে বুড়িগঙ্গা নদীর পাড়ের খালি জায়গায় বসবে একটি হাট। এছাড়া সাদেক হোসেন খোকা মাঠের দক্ষিণ পাশের খালি জায়গা থেকে শুরু করে ধোলাইখালের দুই মূল সড়কেও বসবে পশুর হাট।
দক্ষিণ সিটির উত্তর শাহজাহানপুর মৈত্রী সংঘ ক্লাবের খালি জায়গা এবং রহমতগঞ্জ ক্লাবের খালি জায়গাতেও হাট বসবে। এছাড়া আমুলিয়া মডেল টাউনের খালি জায়গা ও শ্যামপুর-কদমতলী ট্রাকস্ট্যান্ডের সড়কের দু’পাশে এবং খালি জায়গায় বসবে কোরবানির পশুর হাট।
আফতাব নগর (ইস্টার্ন হাউজিং) ব্লক-ই, এফ, জি, এইচ, সেকশন-১ ও ২–এর খালি জায়গায়, শিকদার মেডিক্যাল–সংলগ্ন আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের খালি জায়গায় এবং কাজলা ব্রিজ থেকে মাতুয়াইল মৃধাবাড়ি পানির পাম্প–সংলগ্ন রাস্তার অব্যবহৃত জায়গায়ও হাট বসবে।
দয়াগঞ্জ রেলক্রসিং থেকে জুরাইন রেলক্রসিং পর্যন্ত রাস্তার ওপর, মোস্তমাঝি মোড়–সংলগ্ন বনশ্রী হাউজিংয়ের খালি জায়গায়, ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের দক্ষিণ-পূর্ব পাশের খালি জায়গা এবং গোলাপবাগের আউটার স্টাফ কোয়ার্টারের উত্তর পাশের খালি জায়গায় কোরবানির পশুর হাট বসবে।
সারুলিয়া হাট বাদ
প্রতিবছর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের স্থায়ী হাট সারুলিয়াতে কোরবানির হাট বসলেও এবছর সেই হাটটি বসবে না। ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড হাটটি অধিগ্রহণ করায় সিটি করপোরেশন এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। ফলে চলতি বছর হাটটি বাদ পড়েছে। আসন্ন ঈদের আগে বিকল্প হাট কোথায় বরাদ্দ দেওয়া যায়— সেটাও বিবেচনায় রাখছে সংস্থাটি।
ডিএনসিসির এলাকায় অস্থায়ী হাটের তালিকা
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় এবার ১২টি অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাট বসবে। অস্থায়ী হাটের পাশাপাশি গাবতলী হাটে (ডিএনসিসির স্থায়ী হাট) প্রতিবারের মতো এবারও কোরবানির পশু বেচাবিক্রি হবে।
উত্তর সিটির খিতক্ষেত বাজার–সংলগ্ন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচের খালি জায়গা, মিরপুর সেকশন ৬ (ইস্টার্ন হাউজিং)–এর খালি জায়গা এবং মিরপুর কালশী বালুর মাঠের (১৬ বিঘা) খালি জায়গায় পশু বিক্রি হবে।
এছাড়া মেরুল বাড্ডা কাঁচাবাজার সংলগ্ন খালি জায়গা, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট সংলগ্ন খালি জায়গা, পূর্ব হাজীপাড়া, ইকরা মাদ্রাসার পাশের খালি জায়গা, মোহাম্মদপুরের বছিলায় ৪০ ফুট রাস্তা সংলগ্ন খালি জায়গা এবং উত্তরা দিয়াবাড়ি ১৬ ও ১৮ নম্বর সেক্টর সংলগ্ন বউ বাজার এলাকার খালি জায়গাতেও বসবে কোরবানির পশুর হাট।
ভাটুলিয়া সাহেব আলী মাদ্রাসা থেকে ১০ নম্বর সেক্টর রানাভোলা অ্যাভিনিউ সংলগ্ন উত্তরা রানাভোলা স্লুইসগেট পর্যন্ত খালি জায়গা, কাঁচকুড়া বাজার সংলগ্ন রহমান নগর আবাসিক এলাকার খালি জায়গা, মস্তুল চেকপোস্ট সংলগ্ন পশ্চিম পাড়ার খালি জায়গা এবং ভাটারার সুতিভোলা খাল সংলগ্ন খালি জায়গায় অস্থায়ী হাট বসবে।
সিটি করপোরেশনের বক্তব্য
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীতে পশুর হাট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা এবং শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং নগরবাসীর ভোগান্তি কমানোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, “অস্থায়ী হাটগুলোর ইজারা প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। নগরবাসীর ভোগান্তি এড়াতে নির্দিষ্ট সময়ের আগে কোথাও হাট না বসাতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সীমানার বাইরে হাট বসালেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, “প্রতিবছর কোরবানির হাট নিয়ে নানা অভিযোগ শোনা যায়। এবছর যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অভিযোগ না আসে সেই ব্যবস্থাই আমরা নিয়েছি।” হাট ইজারার বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা কাউকে লুকোচুরি করে হাট দিচ্ছি না। টেন্ডার ওপেনভাবে করা হয়, অংশগ্রহণকারীরা নিজের চোখে প্রক্রিয়া দেখে। আপিলের সুযোগ থাকে এবং নিয়ম অনুযায়ীই সব সম্পন্ন করা হয়। সবাইকে সুযোগ দিতে তিন ধাপে টেন্ডার প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হচ্ছে।”



