ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হাম আক্রান্ত রোগীদের জন্য আইসোলেশন ওয়ার্ড করা হয়েছে। ওয়ার্ডের ভেতরে নেবুলাইজার মেশিন রাখা টেবিলের পাশে রোগীর স্বজনদের ভিড়। একটিমাত্র নেবুলাইজার দিয়ে চলছে হাজারো শিশুর চিকিৎসা। তাও আবার ত্রুটিপূর্ণ। দীর্ঘ লাইন ধরে ছোট্ট অসুস্থ শিশুদের অক্সিজেন সরবরাহ করতে হচ্ছে। এ নিয়ে রোগীর স্বজনদের অনেক ক্ষোভ। একেবারেই অসহনীয় অবস্থায় চলছে চিকিৎসা।
হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের现状
১৯ মে দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে গিয়ে এ দৃশ্য দেখা যায়। নেত্রকোনার কলমাকান্দার আলম-মিতু দম্পতির আট মাস বয়সী শিশুপুত্র মাহাদীকে হাম সন্দেহে ভর্তি করা হয়েছে গত ৬ মে। হাম ছাড়াও শিশুটির জ্বর, ঠান্ডা, কাশি, নিউমোনিয়ার পাশাপাশি রয়েছে শ্বাসকষ্ট। দিনে চারবার নেবুলাইজার মেশিনে অক্সিজেন দিতে হয়। এজন্য কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষায় থাকতে হয়।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ
হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মাহাদীর মা মিতু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ওয়ার্ডে একটিমাত্র নেবুলাইজার মেশিন। সেটি আবার এক সপ্তাহ ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। তার ছিদ্রের ভেতরে হাত দিয়ে ধরে রাখতে হয়। এভাবেই চলছে হামের চিকিৎসা। অথচ নেবুলাইজার মেশিন বদলে দিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। যেন কারও কোনও মাথাব্যথা নেই। অথচ দিনে কয়েকশ শিশুকে এভাবে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।’
হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ধারণ ক্ষমতার প্রায় তিনগুণ রোগী ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে। রোগীর চাপ সামলাতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। এদিকে ভর্তিকৃত রোগীর স্বজনদের রয়েছে নানা অভিযোগ। নেবুলাইজার নিতে আসা ছয় মাস বয়সী রোজা মনির বাবা আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘ওয়ার্ডে ভর্তিকৃত বেশিরভাগ শিশুদের শ্বাসকষ্ট। সবারই প্রায় নেবুলাইজার দিতে হয়। একটা মেশিনে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে শিশুদের নেবুলাইজার করতে হয়। অথচ কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কোনও উদ্যোগ নিচ্ছে না।’
বিছানা সংকট ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ
হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে বিছানা রয়েছে ৪০টি। ১৯ মে ভর্তি ছিল ১০৮ জন শিশু। প্রায় তিনগুণ ভর্তি থাকায় মেঝেতে বেশিরভাগ শিশুকে আশ্রয় নিতে হয়েছে। আরেক রোগীর স্বজন হুমায়ুন কবির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘একটা বিছানায় তিন থেকে চার জন শিশুকে রাখা হচ্ছে। এ ছাড়া মেঝেতে তো জায়গাই নেই রাখার। ওয়ার্ডের ভেতরে সব সময় নোংরা পরিবেশ থাকে। ওয়ার্ডবয়রা ওয়াশরুম পরিষ্কার করে না। পরিষ্কার করতে বললে খারাপ আচরণ করেন। চিকিৎসার বেহাল অবস্থা।’
আরেক শিশুর মা পপি আক্তার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নানা অব্যবস্থাপনার মধ্যে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে শিশুদের চিকিৎসা সেবা চলছে। বেশিরভাগ দামি দামি ইনজেকশনসহ ওষুধপত্র বাইরে থেকে কিনতে হয়। তবে চিকিৎসক-নার্সরা মোটামুটি সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এটি পর্যাপ্ত নয় শিশুদের জন্য।’
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
এসব বিষয়ে জানতে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকাল পারসন চিকিৎসক গোলাম মাওলার কক্ষে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করেননি। হাসপাতালের সিনিয়র স্টোর অফিসার চিকিৎসক ঝন্টু সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চিকিৎসক ও নার্সরা তাদের সাধ্যমতো হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে শিশুদের সেবা দিয়ে আসছেন। যেসব ওষুধপত্র সরকার থেকে বরাদ্দ পাওয়া যায় সেগুলো রোগীদের দেওয়া হচ্ছে। নেবুলাইজার মেশিন বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে দেওয়া হয়েছে। তবে কেন ব্যবহার করা হচ্ছে না সেটি দেখা হবে।’
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. শেখ আলী রেজা সিদ্দিকী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশনা মোতাবেক হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তিকৃত শিশুদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। এরপরও যদি কোনও ঘাটতি থাকে সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এসব বিষয়ে রোগীর স্বজনরা আমাদের কাছে অভিযোগ করেননি।’



