ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশুদের জন্য ২০ শয্যার একটি ফিল্ড ওয়ার্ড চালুর অপেক্ষায় রয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এই ওয়ার্ড চালু করতে সহযোগিতা করছে। বুধবার সকালে হাসপাতালের শহীদ ডা. মিলন অডিটোরিয়ামের পাশে তাঁবু দিয়ে সাজানো ফিল্ড ওয়ার্ডটি দেখা যায়, যেখানে চারজন আনসার সদস্য দায়িত্বে রয়েছেন।
ফিল্ড ওয়ার্ড প্রসঙ্গে পরিচালকের বক্তব্য
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, 'হামের জন্য আমরা এখানে ২০ বেডের একটি ফিল্ড হসপিটাল করেছি। কিন্তু এখনো ওখানে রোগী রাখছি না। আমাদের অধিদপ্তর থেকে আদেশ দেওয়া হয়নি। আদেশ পেলে তারপর শুরু করব।' তিনি জানান, চিকিৎসক, নার্স ও ঔষধপত্র প্রস্তুত থাকলেও রোগী রাখার আদেশ এখনো আসেনি।
হামের রোগীদের বর্তমান ব্যবস্থাপনা
হামে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা মেডিকেলে আসা শিশুদের কী করা হয়? পরিচালক বলেন, 'এখানে আসা হামের রোগীদের যাদের বাসায় রেখে চিকিৎসা সম্ভব, তাদের বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আর যেসব শিশু ভর্তিযোগ্য, তাদের মধ্যে যারা এক বছরের ছোট, তাদের শিশু হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। এক বছর থেকে বড়দের শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল বা ডিএনসিসি হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।'
চিকিৎসাধীন অবস্থায় হামে আক্রান্ত শিশুদের ব্যবস্থা
ঢামেক পরিচালক জানান, হাম ছাড়া অন্যান্য রোগে ভর্তি হওয়া শিশুরা যদি চিকিৎসাধীন অবস্থায় হামে আক্রান্ত হয়, তাহলে তাদের আলাদা কেবিনে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তিনি বলেন, 'যে শিশু এখানে সার্জারি বিভাগের চিকিৎসা নিচ্ছে, সে হামে আক্রান্ত হলে তাকে অন্য হাসপাতালে পাঠানো সম্ভব নয়, কারণ এখানে তার ফলোআপ লাগবে। সে জন্য চিকিৎসাধীন অবস্থায় হামে আক্রান্ত শিশুদের জন্য আলাদা চারটি কেবিন রাখা হয়েছে।'
আইসোলেশন ওয়ার্ডের অভাব
ঢামেকে শিশুদের জন্য আইসোলেশন ওয়ার্ড না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করেন পরিচালক। শিশু ওয়ার্ডের ২১০-১১ নম্বর ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, অনেক শিশু চিকিৎসাধীন। শয্যা খালি না থাকায় অনেক শিশুকে নিচে মেঝেতে শয্যার ব্যবস্থা করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
রোগীর পরিবারের অভিজ্ঞতা
মেঝেতে একটি বিছানায় নিজের শিশুসন্তান নিয়ে বসে ছিলেন সুরভী আক্তার। তিনি জানান, দেড় বছর বয়সী শিশু আবিরকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে দুই দিন আগে ঢাকা মেডিকেলে এসেছেন। আবিরের অনেক দিন ধরে জ্বর থাকায় স্থানীয় চিকিৎসকেরা ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার পরামর্শ দেন। এখানে আসার পর কোনো বেড পাননি; নিচে একটি বেড পেতে দেওয়া হয়েছে। আবিরের নিউমোনিয়া হয়েছে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।



