সার্ভিক্যাল স্পন্ডাইলোসিস একটি সাধারণ রোগ যা ঘাড় ও মেরুদণ্ডের জয়েন্টকে প্রভাবিত করে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড়ের ক্ষয়জনিত পরিবর্তনের কারণে এটি হয়ে থাকে। এ ছাড়া দীর্ঘক্ষণ ঘাড় বাঁকিয়ে কাজ করলে ইন্টারভার্টিব্রাল ডিস্কে চাপ পড়ে এবং গঠনগত পরিবর্তনের ফলে এই রোগ দেখা দেয়। ডিস্কের আর্দ্রতা কমে গেলে দুটি কশেরুকার মাঝখানে ঘর্ষণ সৃষ্টি হয়, যার ফলে নতুন হাড় বা স্পার তৈরি হয়। এই স্পারই সার্ভিক্যাল স্পন্ডাইলোসিসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
কারণসমূহ
বয়সজনিত পরিবর্তন ছাড়াও বংশগত কারণে কম বয়সেও এই রোগ হতে পারে। যাদের বারবার ঘাড় একইভাবে নাড়াতে হয় বা দীর্ঘক্ষণ একই অবস্থায় রাখতে হয়, যেমন কম্পিউটার বা ল্যাপটপে দীর্ঘ সময় কাজ করা, তাদের ঝুঁকি বেশি। আগের কোনো আঘাত, অতিরিক্ত শক্ত বা নরম বালিশ ব্যবহার এবং রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের মতো রোগ থেকেও সার্ভিক্যাল স্পন্ডাইলোসিস হতে পারে।
লক্ষণ
- ঘাড় ব্যথা ও শক্ত হয়ে যাওয়া
- পিঠের মাংসপেশিতে ব্যথা
- ঘাড়ের ব্যথা হাত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়া
- হাত অবশ বা ঝিমঝিম করা
- মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা ও বমি ভাব
চিকিৎসা ও ফিজিওথেরাপি
জীবনযাত্রার পরিবর্তন সম্পর্কে রোগীকে জানানো জরুরি। ব্যথানাশক ওষুধ সাময়িক আরাম দেয়, মাসল রিল্যাক্স্যান্ট শক্ত মাংসপেশি নরম করে। ভিটামিন বি১, বি৬, বি১২ স্নায়ু ভালো রাখে, এবং অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট দীর্ঘমেয়াদে ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। তীব্র ব্যথা ও প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে অল্প সময়ের জন্য স্টেরয়েড নেওয়া যেতে পারে।
ফিজিওথেরাপি সার্ভিক্যাল স্পন্ডাইলোসিসের চিকিৎসায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন ঘাড় ও আশপাশের মাংসের নির্দিষ্ট ব্যায়াম করানো হয়, যা হাড়ের কার্যক্ষমতা বাড়ায় ও ব্যথা কমায়। ইলেকট্রোথেরাপির মাধ্যমে ঘাড়, পিঠ ও হাতে গরম তাপ দেওয়া হয়, যা রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে। সার্ভিক্যাল ট্র্যাকশনের মাধ্যমে ঘাড়ের স্নায়ুতন্ত্রের ওপর হাড় বা স্পারের চাপ কমানো যায়, ফলে হাতের অবশভাব কমে।
কিছু ক্ষেত্রে শল্য চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, যেমন মেডিক্যাল চিকিৎসা অকার্যকর হলে, নার্ভের সমস্যায় হাত-পায়ের মাংস সংকুচিত হলে, হাঁটাচলা বা দৈনন্দিন কাজে অসুবিধা হলে, মলমূত্র ত্যাগে নিয়ন্ত্রণ হারালে এবং স্পাইনাল কর্ডের সমস্যা দেখা দিলে।



