সন্তানের মুখ দেখার আনন্দে ভাসছিলেন তারা। কিন্তু অস্ত্রোপচারের কয়েক ঘণ্টা পরই সেই আনন্দ রূপ নিলো বিষাদে। ভারতের রাজস্থানের কোটার নিউ কলেজ মেডিক্যাল হাসপাতালে সি-সেকশনের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর দুই মায়ের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও চারজন আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। কী কারণে সুস্থ নারীরা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লেন, সেটির কারণ খুঁজতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
ঘটনার বিবরণ
আক্রান্ত ছয়জন নারীই গত ৪ মে সন্তান প্রসব করেছিলেন। অস্ত্রোপচারের কিছুক্ষণ পরেই তারা বুকে ব্যথা, প্রস্রাব করতে না পারাসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার অভিযোগ করেন। চিকিৎসকদের মতে, এই সমস্যা সরাসরি তাদের কিডনিতে আঘাত হেনেছে।
মৃত্যুর ঘটনা
২৮ বছর বয়সী পায়েল ৫ মে সকালে মারা যান। আর ২০ বছর বয়সী জ্যোতি রবি মারা যান তার দুই দিন পর। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, তাদের মৃত্যুর কারণ কিডনি বিকল হওয়া। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন বাকি চারজনের মধ্যে তিনজনেরই এখনো স্বাভাবিক প্রস্রাব হচ্ছে না। তাদের শরীর ফুলে গেছে এবং চোখ হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে।
ভুক্তভোগীর বক্তব্য
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাগিনী মীনা (২৯) তার ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, ‘অস্ত্রোপচারের কয়েক ঘণ্টা পর থেকেই আমি প্রস্রাব করতে পারছিলাম না, বুকে ব্যথা শুরু হয়েছিল। শরীর ফুলে গিয়েছিল এবং চোখ খুলতে পারছিলাম না। তখনই শুনলাম অন্য এক প্রসূতি মারা গেছেন।’ ৩৫ বছর বয়সী ধন্নি বাঈয়ের অবস্থা আরও আশঙ্কাজনক। তাকে অক্সিজেন মাস্ক পরিয়ে রাখা হয়েছে।
তদন্ত ও ব্যবস্থা
নিউরোসার্জন ডা. এস এন গৌতম জানান, ‘আমরা এখনও মূল কারণ খুঁজে পাইনি। সি-সেকশনের সময় ব্যবহৃত সব ওষুধ সরিয়ে ফেলা হয়েছে।’ পুরো রাজস্থান জুড়ে একটি নোটিশ জারি করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ওষুধগুলোর ব্যবহার আপাতত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
রাজস্থানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী গজেন্দ্র সিং খিমসারের নির্দেশে জয়পুরের সোয়াই মান সিং মেডিক্যাল কলেজ থেকে চারজন বিশেষজ্ঞের একটি দল কোটায় পৌঁছেছে। এই দলে অ্যানেস্থেশিয়া, মেডিসিন, স্ত্রীরোগ এবং নেফ্রোলজি বিশেষজ্ঞরা রয়েছেন। যদি কোনও অবহেলা পাওয়া যায়, তবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে সরকার।
শিশুদের অবস্থা
হাসপাতাল চত্বরে এখন শোকের ছায়া। সুস্থ অবস্থায় মা হতে এসে কেন এমন পরিণতি হলো, সেই উত্তর খুঁজছে পরিবারগুলো। এদিকে মায়ের অসুস্থতার কারণে চারটি নবজাতককে নিওনেটাল আইসিইউতে রাখা হয়েছে, কারণ তারা মায়ের দুধ পানের সুযোগ পাচ্ছে না। বাকি দুটি শিশুকে তাদের পরিবার বাড়িতে নিয়ে গেছে।



