গর্ভপাতের পর সন্তান নেওয়ার সঠিক সময় ও করণীয়
গর্ভপাতের পর সন্তান নেওয়ার সঠিক সময় ও করণীয়

গর্ভপাত সাধারণত একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে এটি অনেক পরিবারে হতাশা ও শঙ্কা তৈরি করে। নারীর মনে প্রশ্ন জাগে, আর কি সন্তান ধারণ করা যাবে? একটি গর্ভপাতের পর পুনরায় সন্তান ধারণের জন্য কিছু ধাপ অনুসরণ করা জরুরি।

গর্ভপাতের পর সহবাস ও সংক্রমণ ঝুঁকি

গর্ভপাতের পরপরই সহবাস করলে যোনিপথে সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকে। তাই গর্ভপাতের সব লক্ষণ পুরোপুরি সেরে যাওয়ার পর সহবাস করা উচিত। বিশেষজ্ঞরা গর্ভপাতের পর প্রায় দুই সপ্তাহ সহবাস এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন। এছাড়া দুই সপ্তাহ পর্যন্ত ট্যাম্পুন বা মিনস্ট্রুয়াল কাপ ব্যবহার না করাই ভালো, কারণ এগুলো সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।

পুনরায় গর্ভধারণের সময়

গর্ভপাতের দুই সপ্তাহ পরেই পুনরায় গর্ভধারণ সম্ভব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণা বলছে, গর্ভপাতের কমপক্ষে ৬ মাস পর গর্ভধারণ করলে মা ও শিশুর জন্য ভালো ফলাফল আসে। তবে স্কটল্যান্ডের এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রথমবার গর্ভপাতের ৬ মাসের মধ্যে গর্ভধারণ করলেও ভালো ফল পাওয়া যায়। আপনার শারীরিক অবস্থা ও পূর্বের গর্ভধারণের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসক সঠিক সময় নির্ধারণে সহায়তা করবেন। তাই হাসপাতাল থেকে ফেরার সময় বা পুনরায় গর্ভধারণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা

এ সময়ে আপনি যদি গর্ভবতী হতে না চান, তাহলে গর্ভপাতের পর যত দ্রুত সম্ভব কার্যকর জন্মনিরোধক ব্যবস্থা শুরু করুন। তবে গর্ভপাতের পর একবার মাসিক হয়ে যাওয়ার পর গর্ভধারণের চেষ্টা করলে ভালো হয়, কারণ এতে করে গর্ভধারণের সময় বোঝা সহজ হয়। সাধারণত গর্ভপাতের ৪-৮ সপ্তাহের মধ্যে মাসিক শুরু হয়। তবে সবার ক্ষেত্রে এই সময়কাল কম-বেশি হতে পারে। শুরুর দিকে মাসিক অনিয়মিত হতে পারে এবং স্বাভাবিক হতে কয়েক মাস লাগতে পারে।

গর্ভপাত প্রতিরোধের উপায়

অনেক ক্ষেত্রে গর্ভপাতের নির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না, ফলে সবসময় প্রতিরোধ সম্ভব নয়। তবে ঝুঁকি কমানোর জন্য নিচের বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখুন:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

১. প্রি-কন্সেপশন চেকআপ

গর্ভধারণের আগে চিকিৎসকের কাছে প্রি-কন্সেপশন চেকআপে যান। এতে পূর্বের গর্ভধারণ ও পারিবারিক রোগের ইতিহাস সম্পর্কে তথ্য নেওয়া হয়। বর্তমানে কোনো ওষুধ সেবন বা রোগ থাকলে তা জানান। গর্ভধারণের জন্য শারীরিক সুস্থতা যাচাইয়ে রক্ত পরীক্ষা, প্রস্রাব পরীক্ষা, ওজন, রক্তচাপ মাপা এবং প্রয়োজনে প্যাপ টেস্ট করা হয়। পেট, তলপেট ও স্তনের শারীরিক পরীক্ষাও করা হতে পারে। এতে কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে তা চিহ্নিত করে চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব।

২. পুষ্টিকর ও সুষম খাদ্যাভ্যাস

গর্ভকালীন সময়ে পর্যাপ্ত পুষ্টিকর ও সুষম খাবার খান। দিনে কমপক্ষে পাঁচ পরিবেশন ফলমূল ও শাকসবজি খাওয়ার চেষ্টা করুন। গর্ভধারণের পরিকল্পনা করার সময় থেকে ফলিক অ্যাসিড ও আয়রন ট্যাবলেট খেতে পারেন, যাতে সন্তানের বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের ঘাটতি না হয়।

৩. স্বাভাবিক ওজন

গর্ভধারণের আগে শরীরের ওজন স্বাভাবিক মাত্রায় নিয়ে আসুন। অস্বাভাবিক বেশি ওজন গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ায়। খাদ্যাভ্যাস ও সক্রিয় জীবনযাপনের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

৪. মানসিক সুস্থতা

মানসিক চাপ থেকে মুক্ত থাকার চেষ্টা করুন। অতিরিক্ত চাপ গর্ভধারণের সম্ভাবনাকে প্রভাবিত করতে পারে। শারীরিক ব্যায়াম, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম বা মেডিটেশন মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।

৫. পরিমিত ক্যাফেইন

চা-কফির মতো ক্যাফেইনযুক্ত খাবার পরিমিত পরিমাণে পান করুন। গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে দুই কাপের বেশি ক্যাফেইন গ্রহণ গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ায়।

৬. ধূমপান ও মদ্যপান বর্জন

ধূমপান, মদ্যপান বা অন্য নেশাজাতীয় দ্রব্য পুরোপুরি বাদ দিন। এগুলো নারী-পুরুষ উভয়ের প্রজনন ক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই সঙ্গীসহ উভয়েই এগুলো এড়িয়ে চলুন।

৭. সংক্রমণ থেকে সতর্কতা

গর্ভাবস্থায় রুবেলার মতো সংক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করুন। কাঁচা বা অর্ধসেদ্ধ মাছ, মাংস, ডিম ও দুধ খেলে শরীরে জীবাণু প্রবেশ করে সংক্রমণ হতে পারে। তাই এগুলো ভালোভাবে সেদ্ধ করে খান।

তথ্যসূত্র: সহায় হেলথ।