শেরপুর পৌর শহরের ঢাকলহাটি মহল্লায় ১২ বছর বয়সী এক পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণ এবং পরবর্তীকালে অবৈধভাবে গর্ভপাত করানোর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই শিশুকে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার বাদী হয়ে স্থানীয় যুবক কাউছার (২৪) ও সুন্নত আলী সন্তু (৬০) সহ কয়েকজনকে আসামি করে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে।
ধর্ষণ ও গর্ভপাতের ঘটনা
ভুক্তভোগী পরিবার ও মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, শেরপুর পৌর শহরের ঢাকলহাটি মহল্লার শাহীন মিয়ার ছেলে কাউছার মিয়া (২৪) ওই শিশুকে বিভিন্ন সময় প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। একপর্যায়ে শিশুটি ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। সম্প্রতি শিশুটির শারীরিক গঠনে পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেলে বিষয়টি কাউছারের নজরে আসে। এরপর অপরাধ ধামাচাপা দিতে কাউছার অন্য আসামিদের সহযোগিতায় ওই শিশুর জোরপূর্বক গর্ভপাত করায়। অনভিজ্ঞ ও অবৈধ উপায়ে গর্ভপাত করানোর ফলে শিশুটির শরীর থেকে ব্যাপক রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে।
স্থানীয় প্রভাবশালীদের চাপ
অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল বিষয়টি সামাজিকভাবে ধামাচাপা দিতে ভুক্তভোগী পরিবারকে নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করে। তবে শিশুর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে গত ২২ মে (শুক্রবার) তার মা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান এবং গাইনি বিভাগে ভর্তি করান।
ভুক্তভোগীর মায়ের বক্তব্য
কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিশুটির মা বলেন, “আমার অবুঝ মেয়েটাকে ফুসলিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে। পরে তারা জোর করে বাচ্চা নষ্ট করেছে। প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে আমার মেয়ে এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছটফট করছে। আমি এই পশুপিশাচদের ফাঁসি ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
হাসপাতালের বক্তব্য
ভুক্তভোগী শিশুর বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডাক্তার তাহেরাতুল আশরাফী বলেন, “১২ বছর বয়সী এক কন্যা শিশু স্ত্রী-রোগজনিত (গাইনি) মারাত্মক জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চলছে এবং বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল।”
পুলিশের ব্যবস্থা
এই বিষয়ে শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পৌর শহরের একটি মহল্লায় শিশুকে ধর্ষণ ও গর্ভপাত করানোর অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।



