লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার পাটারীরহাট ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা জেলে রুহুল আমিন (৩৮) ক্যানসারের চতুর্থ স্টেজে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সাথে লড়াই করছেন। অর্থাভারে তার চিকিৎসা বন্ধ হওয়ার পথে। স্বামীর জীবন বাঁচাতে লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ আশরাফ উদ্দিন নিজানের ব্যক্তিগত মানবিক সহযোগিতা ও সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তার স্ত্রী মাইনুর বেগম।
পরিবারের দুর্দশা
চার বছর আগে মেঘনা নদীর ভাঙনে রুহুল আমিন তার শেষ সম্বল ভিটেমাটি হারান। এক প্রতিবেশীর দয়ায় আশ্রয় নিয়ে নদীতে জাল ফেলে পাঁচ সদস্যের সংসার চালাতেন। কিন্তু এখন তিনি হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণায় ছটফট করছেন। তার জীর্ণ ঘরে রয়েছে স্ত্রী মাইনুর বেগম, ১৫ বছরের কিশোরী মেয়ে ও আরও দুই ছোট সন্তান। চিকিৎসার খরচ জোগাতে পরিবারের সব সম্বল বিক্রি হয়ে গেছে। ধারদেনা করে এখন তারা সম্পূর্ণ নিঃস্ব।
স্ত্রীর আবেদন
মাইনুর বেগম বলেন, “সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটা আজ বিছানায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। ডাক্তাররা বলছেন ক্যানসারের শেষ ধাপ, অনেক টাকার প্রয়োজন; কিন্তু আমাদের ঘরে আজ বাচ্চাদের মুখে দেওয়ার মতো একমুঠো চালও নেই। স্বামীর জীবন বাঁচাতে আমি হুইপ মহোদয়সহ দেশের ও প্রবাসের সহৃদয়বান মানুষের কাছে আর্থিক সাহায্যের আকুতি জানাচ্ছি।”
স্থানীয়দের উদ্যোগ
রুহুল আমিনের প্রতিবেশী ডা. বেলাল জানান, প্রথম দিকে প্রতিবেশী, স্থানীয় বাজার কমিটি ও প্রবাসীদের সহযোগিতায় প্রায় ৫ লক্ষ টাকা জোগাড় করে চিকিৎসা করা হয়েছিল। কিন্তু এখন আর সেই ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি সমাজের বিত্তশালীদের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
হুইপের মানবিক ভূমিকা
এলাকাবাসী জানান, হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান দীর্ঘদিন ধরে তার নির্বাচনী এলাকায় মানবিক কর্মকাণ্ডের জন্য প্রশংসিত। তিনি নদীভাঙনে নিঃস্ব হওয়া বেশ কয়েকটি পরিবারকে নিজস্ব অর্থায়নে ঘর নির্মাণ করে দিয়েছেন এবং ক্যানসার আক্রান্ত এক দরিদ্র রোগীকে এক লক্ষ টাকা অনুদান দিয়েছেন। তার এই ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের ওপর ভরসা করেই রুহুল আমিনের পরিবার তার কাছে সাহায্য চেয়েছে।
নির্বাচনী প্রার্থীদের উদাসীনতা
এদিকে, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ওই ওয়ার্ডে অন্তত ১২ জন সম্ভাব্য মেম্বার পদপ্রার্থী মাঠে নেমেছেন। ব্যানার-ফেস্টুনে তারা ‘জনগণের খেদমত’ ও ‘সুখে-দুখে পাশে থাকার’ প্রতিশ্রুতি দিলেও রুহুল আমিনের পরিবারের খোঁজ নিতে আসেননি। স্থানীয় সচেতন মহল এই উদাসীনতায় ক্ষুব্ধ।
সরকারি সহায়তার আশ্বাস
কমলনগর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোর্শেদ আলম জানান, ক্যানসার ও লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য সরকারি অনুদানের ব্যবস্থা রয়েছে। তারা দ্রুততম সময়ে রুহুল আমিনের পরিবারকে চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার জন্য ফাইল প্রসেস করবেন। পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় স্থায়ী সহযোগিতার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে।



