আমাদের সবারই মাঝে মাঝে নাক বন্ধ হয়ে যায়। সর্দি-কাশি বা সাইনাসের সমস্যায় নাক বন্ধ হওয়া খুব সাধারণ একটি বিষয়। কিন্তু যদি একপাশের নাক দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকে, কিংবা ঘন ঘন নাক দিয়ে রক্ত পড়ে, অথবা হঠাৎ গন্ধ পাওয়ার ক্ষমতা কমে যায়; তাহলে বিষয়টি শুধু সাধারণ ঠান্ডা নাও হতে পারে।
নাকের টিউমারের লক্ষণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব লক্ষণ হতে পারে নাক বা সাইনাসে টিউমারের আগাম ইঙ্গিত। নাক ও আশপাশের সাইনাসে হওয়া এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধিকে বলা হয় ন্যাসাল ও প্যারান্যাসাল টিউমার। এটি ক্যানসারজনিতও হতে পারে, আবার নন-ক্যানসারাসও হতে পারে। যদিও রোগটি তুলনামূলক বিরল, তবে দেরিতে রোগ নির্ণয় করা হলে ঝুঁকি অনেক বেড়ে যেতে পারে। তাই সবার উচিত আগেই এই সমস্যা সম্পর্কে সচেতন হওয়া।
নাকের টিউমার আসলে কী?
নাকের ভেতরের ফাঁকা অংশ বা আশপাশের বায়ুভর্তি সাইনাসে যখন অস্বাভাবিক কোষ বৃদ্ধি পায়, তখন সেটিকে নাকের টিউমার বলা হয়। কিছু টিউমার ক্ষতিকর নয়, তবে কিছু টিউমার ক্যানসারে রূপ নিতে পারে। নন-ক্যানসারাস টিউমারের মধ্যে রয়েছে ন্যাসাল পলিপ ও হেম্যাঞ্জিওমা। অন্যদিকে স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা, অ্যাডিনোকার্সিনোমা, নিউরোব্লাস্টোমা-র মতো ক্যানসারও নাকে হতে পারে।
কখন সতর্ক হবেন?
প্রথমদিকে এই রোগের লক্ষণ অনেকটা সাধারণ সাইনাস সমস্যার মতোই মনে হয়। তাই অনেকে বিষয়টি গুরুত্ব দেন না। তবে নিচের উপসর্গগুলো দীর্ঘদিন থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি:
- একপাশের নাক দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা
- ঘন ঘন নাক দিয়ে রক্ত পড়া
- গন্ধ পাওয়ার ক্ষমতা কমে যাওয়া
- মাথাব্যথা বা মুখে ব্যথা
- চোখ দিয়ে পানি পড়া
- কণ্ঠস্বর বদলে যাওয়া
- কানে বারবার ইনফেকশন
- ঝাপসা দেখা বা ডাবল দেখা
- মুখ পুরোপুরি খুলতে সমস্যা হওয়া
- নাক, মুখ বা গলায় অস্বাভাবিক মাংসপিণ্ড দেখা যাওয়া
ঝুঁকির কারণ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোষের জিনগত পরিবর্তনের কারণেই মূলত টিউমার তৈরি হয়। যদিও সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি, তবে কিছু ঝুঁকির কারণ উল্লেখ করা হয়েছে:
- ধূমপান
- পরোক্ষ ধূমপানের ধোঁয়া
- কাঠ বা চামড়ার ধুলা
- রাসায়নিক বাষ্প
- ফরমালডিহাইড, সলভেন্ট বা আঠার সংস্পর্শে কাজ করা
বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন কারখানা বা রাসায়নিক পরিবেশে কাজ করেন, তাদের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
চিকিৎসা পদ্ধতি
টিউমারের ধরন ও অবস্থার ওপর নির্ভর করে এর চিকিৎসা নির্ধারণ করা হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউমার অপসারণ করা হয়। আর যদি টিউমার ক্যানসারের রূপ নিয়ে ফেলে, তাহলে রেডিয়েশন থেরাপি বা কেমোথেরাপিও লাগতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের আগে রেডিয়েশন দেওয়া হয়, যাতে টিউমার ছোট হয়ে আসে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে নাকের অনেক ক্যানসার পুরোপুরি নিরাময় সম্ভব। কিন্তু দেরি হলে এটি চোখ, মস্তিষ্ক কিংবা শরীরের অন্য অংশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই দীর্ঘদিনের নাক বন্ধ, অস্বাভাবিক রক্তপাত বা গন্ধ না পাওয়ার মতো সমস্যাকে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
সূত্র: ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক



