চাঁদে যন্ত্রপাতি বহনে চীনের এআই রোবট উন্মোচন
চাঁদে যন্ত্রপাতি বহনে চীনের এআই রোবট উন্মোচন

চন্দ্র অভিযানকে সামনে রেখে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন হিউম্যানয়েড রোবট উন্মোচন করেছে চীন। হংকংয়ের বিজ্ঞানীরা এই রোবটটি তৈরি করেছেন, যা চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি বহন ও স্থাপনের কাজ করবে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে নভোচারী পাঠানোর লক্ষ্যেই এই প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন।

২০২৯ সালের চাং-ই-৮ অভিযান

২০২৯ সালের ‘চাং-ই-৮’ অভিযানের অংশ হিসেবে রোবটটি চাঁদে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। রোবটটির নকশা করেছে হংকং ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি। একশ কেজি ওজনের এই রোবটটি মূলত বহনকারীর কাজ করবে। নভোচারীরা চাঁদে পৌঁছানোর আগেই এটি বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাবে এবং সেগুলো স্থাপন করবে।

রোবটের কাঠামো ও বৈশিষ্ট্য

রোবটটির উপরের অংশ মানুষের মতো। এতে দুটি হাত রয়েছে। নিচের অংশে রয়েছে চার চাকার একটি মডিউল। এটি সৌরশক্তিতে চলবে। বিশ্ববিদ্যালয়টির অধ্যাপক গাও ইয়াং বলেন, ‘চাং-ই-৭’ অভিযানে প্রথমবারের মতো চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে হিউম্যানয়েড রোবট পাঠানো হতে পারে। তবে তাদের রোবটটি দক্ষিণ মেরুর অন্য একটি অংশে কাজ করবে। তিনি আরও বলেন, চাঁদে হিউম্যানয়েড রোবট ব্যবহারে এটি নতুন দৃষ্টান্ত হবে এবং এই নকশা নিয়ে তারা গর্বিত।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষমতা

গাও ইয়াং জানান, রোবটটিতে থাকা এআই যেকোনো বস্তু শনাক্ত করতে পারবে এবং সেটির গতিবিধিও অনুসরণ করবে। ফলে কাজ শুরুর আগেই রোবটটি নিজে পরিকল্পনা করতে সক্ষম হবে। গত কয়েক দশক ধরে উচ্চাকাঙ্ক্ষী মহাকাশ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে চীন। দেশটি ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদের পৃষ্ঠে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

যুক্তরাষ্ট্রের চন্দ্র অভিযানের চ্যালেঞ্জ

অন্যদিকে নাসা তাদের ‘আর্টেমিস ফোর’ অভিযানের অংশ হিসেবে ২০২৮ সালের মধ্যে নভোচারীদের চাঁদে পাঠানোর লক্ষ্য নিয়েছে। তবে কারিগরি জটিলতার কারণে তাদের সময়সূচি কয়েকবার পরিবর্তন হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্পেস এক্স–এর ‘স্টারশিপ হিউম্যান ল্যান্ডিং সিস্টেম’ নিয়ে দ্রুত অগ্রগতি না হলে যুক্তরাষ্ট্রের চন্দ্র অভিযান আরও পিছিয়ে যেতে পারে। মহাকাশে জ্বালানি ভরার জটিল প্রযুক্তির কারণেও প্রকল্পটি চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। নাসার সাবেক প্রশাসক জিম ব্রাইডেনস্টাই বলেছেন, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে চাঁদে মানুষ পাঠানোর দৌড়ে যুক্তরাষ্ট্র চীনের পেছনে পড়ে যেতে পারে।