রুশ সরকারের বৃত্তি বাড়ল, ২০২৬ সালে ২০০টি আসন পাবে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা
রুশ সরকারের বৃত্তি বাড়ল, ২০২৬ সালে ২০০ আসন পাবে বাংলাদেশিরা

ঢাকার রুশ হাউসের পরিচালক আলেক্সান্দ্রা খ্লেভনয় বলেছেন, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য রুশ সরকারি বৃত্তির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৮ সালে এই বৃত্তির সংখ্যা ছিল ৬৫টি, যা ২০২৬ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০০টিতে। এর ফলে প্রতিভাবান শিক্ষার্থীরা রাশিয়ায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন।

অর্ধবার্ষিক সংবাদ সম্মেলনে তথ্য প্রকাশ

মঙ্গলবার ঢাকার রুশ হাউসে আয়োজিত এক অর্ধবার্ষিক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যম প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, রুশ আন্তর্জাতিক কর্মসূচির অংশগ্রহণকারী ও অন্যান্য অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে রুশ হাউসের অর্জন তুলে ধরা হয় এবং শিক্ষা, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও যুব উন্নয়নে রাশিয়া-বাংলাদেশ সহযোগিতার নতুন সুযোগ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রুশ সরকারের পূর্ণ অর্থায়নে যুব কর্মসূচি

প্রেজেন্টেশনে রুশ সরকারের পূর্ণ অর্থায়নে পরিচালিত যুব কর্মসূচির ওপর জোর দেওয়া হয়। এই কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশের মেধাবী শিক্ষার্থী ও তরুণ পেশাজীবীরা রাশিয়ায় শিক্ষা, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও বিনিময়মূলক উদ্যোগে অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে ফোরামের অংশগ্রহণকারী মো. সৈয়দ রায়হান উল ইসলাম (ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি), মো. তৌহিদ বিন শফি (কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ), সাকিব আসাদ খান (কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ) এবং ড. বারেক কায়সার (ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ) তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। তারা ফোরামের মাধ্যমে অর্জিত পেশাগত জ্ঞান, আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কিং এবং নতুন দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে আলোচনা করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নিউ জেনারেশন প্রোগ্রামের উদ্যোগ

পরিচালক নিউ জেনারেশন প্রোগ্রামের অধীনে বেশ কয়েকটি মর্যাদাপূর্ণ উদ্যোগ উপস্থাপন করেন। এর মধ্যে রয়েছে বিশ্ব যুব উৎসব এবং ইস্টার্ন ইকোনমিক ফোরাম। এই কর্মসূচিগুলো বাংলাদেশের মেধাবী তরুণ নেতাদের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের জন্য পূর্ণ অর্থায়নের সুযোগ করে দেয়।

সংবাদ সম্মেলনে নিউ জেনারেশন প্রোগ্রামের অধীনে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সম্মেলন 'শিশুদের জন্য শান্তি' নিয়েও আলোচনা হয়। এ বছর প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত ছয় বাংলাদেশি স্কুলশিশু এই সম্মেলনে অংশ নেয়। তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সহপাঠীদের সঙ্গে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও শান্তি কার্যক্রমে যুক্ত হয়, যা আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব ও আন্তঃসাংস্কৃতিক সংলাপকে উৎসাহিত করে।

সাংবাদিকদের জন্য ফেলোশিপ ও আইসব্রেকার প্রকল্প

প্রেজেন্টেশনে পূর্ণ অর্থায়নে পরিচালিত ওপেন ডায়ালগ ও ইন্টারাশিয়া ফেলোশিপ প্রোগ্রাম ফর জার্নালিস্টের সুযোগগুলোও তুলে ধরা হয়। এই কর্মসূচি বিশ্বজুড়ে উদীয়মান পেশাজীবী ও মিডিয়া বিশেষজ্ঞদের একত্রিত করে। বিশেষ করে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্নাতক জিন্নাত আরা জাসোয়ার ইন্টারাশিয়া ফেলোশিপ প্রোগ্রামে নির্বাচনের জন্য বিশেষ স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

খ্লেভনয় রোসাটমের আন্তর্জাতিক প্রকল্প 'আইসব্রেকার অব নলেজ' সম্পর্কেও আলোচনা করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ ২০২৫ ও ২০২৬ সালে এই প্রকল্পে বিজয়ী তৈরি করেছে। পূর্ণ অর্থায়নের এই কর্মসূচির আওতায় মেধাবী শিক্ষার্থীরা রাশিয়ার পারমাণবিক আইসব্রেকার '৫০ লেট পোবেডি'-তে করে উত্তর মেরুতে ভ্রমণের সুযোগ পায়, যা একটি বৈজ্ঞানিক অভিযানের অংশ।

রুশ ভাষা কোর্সের ধারাবাহিকতা

তিনি আরও জানান, ২০২৫ সালে সেন্ট পিটার্সবার্গ ও রুডিএন ইউনিভার্সিটির বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে রুশ ভাষা কোর্স পরিচালনা করেন। আগস্ট ২০২৬ সালে রুশ ভাষা প্রশিক্ষকরা ফিরে আসবেন এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে কোর্স চালিয়ে যাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আলোচনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

অনুষ্ঠানের শেষ অংশে বক্তা ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের মধ্যে শিক্ষা, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি, যুব বিনিময় ও আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বে বাংলাদেশ-রাশিয়া সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে ইন্টারঅ্যাকটিভ আলোচনা হয়।