বিশ্ব বন্ধ্যত্ব সচেতনতা মাস উপলক্ষে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রিপ্রোডাক্টিভ এন্ডোক্রাইনোলজি অ্যান্ড ইনফার্টিলিটি (আরইআই) ইউনিটের উদ্বোধন করা হয়েছে। হাসপাতালের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের অধীনে এই ইউনিটের উদ্বোধন উপলক্ষে এক বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বিশদ বিবরণ
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (মেডিকেল এডুকেশন) অধ্যাপক ডা. সাকি মো. জাকিউল আলম। সভাপতিত্ব করেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সুলতানা আফরোজ। বিশেষ অতিথিদের মধ্যে ছিলেন অধ্যাপক ডা. আইনুল ইসলাম খান, অধ্যাপক ডা. মো. রেহান উদ্দিন খান, ডা. নন্দা দুলাল সাহা, অধ্যাপক ডা. রাশিদা বেগম, অধ্যাপক ডা. শাকিলা ইশরাত এবং সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফ্লোরিডা রহমান।
বন্ধ্যত্ব নিয়ে ভুল ধারণা দূর করার আহ্বান
প্রধান অতিথি অধ্যাপক ডা. সাকি মো. জাকিউল আলম বলেন, “বন্ধ্যত্বের চিকিৎসা থাকলেও সমাজে এটি নিয়ে এখনো ভুল ধারণা রয়েছে। চিকিৎসাশিক্ষা ও বিশেষজ্ঞসেবার সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের প্রজননস্বাস্থ্য সেবাকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বন্ধ্যত্ব সম্পর্কিত কুসংস্কার দূর করা জরুরি।
শিক্ষা ও গবেষণায় নতুন সংযোজন
সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আইনুল ইসলাম খান বলেন, “শিক্ষা, গবেষণা এবং রোগীসেবায় আরইআই ইউনিট এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হবে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন যে এই ইউনিট চিকিৎসা শিক্ষার্থীদের জন্য গবেষণার সুযোগ তৈরি করবে এবং রোগীদের উন্নত সেবা প্রদান করবে।
সচেতনতা ও মানসম্মত চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা
ফার্টিলিটি সোসাইটি অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. রাশিদা বেগম বলেন, “বাংলাদেশে বন্ধ্যত্ব নিয়ে আরও সচেতনতা বাড়াতে হবে। মানসম্মত চিকিৎসা সহজলভ্য করার মাধ্যমে দম্পতিদের স্বপ্ন পূরণে সহায়তা করা সম্ভব।” তিনি সমাজে বন্ধ্যত্বকে নেতিবাচক দৃষ্টিতে না দেখার আহ্বান জানান।
আরইআই ইউনিটের লক্ষ্য ও কার্যক্রম
বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সুলতানা আফরোজ জানান, “বন্ধ্যত্বের চিকিৎসা সঠিক রোগ নির্ণয় ও মানসিক সহায়তার মাধ্যমে সম্ভব। আমাদের আরইআই ইউনিট সেই লক্ষ্যেই কাজ করবে।” তিনি ইউনিটের মাধ্যমে রোগীদের ব্যাপক সেবা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন।
সায়েন্টিফিক পার্টনার হিসেবে রেনাটা পিএলসি
অনুষ্ঠানে সায়েন্টিফিক পার্টনার হিসেবে রেনাটা পিএলসি অংশগ্রহণ করে। রেনাটা পিএলসির মো. খাইরুল ইসলাম বলেন, “প্রজননস্বাস্থ্য উন্নয়নে রেনাটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভবিষ্যতে আধুনিক আইভিএফ সেন্টার স্থাপনে রেনাটা সহযোগিতা করবে।” তিনি বন্ধ্যত্ব চিকিৎসায় প্রযুক্তিগত সহায়তার ওপর জোর দেন।
প্রবন্ধ উপস্থাপন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
অনুষ্ঠানে সহকারী অধ্যাপক ডা. মেহনাজ মুস্তারী ‘বিশ্ব বন্ধ্যত্ব সচেতনতা মাস জুন’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সহকারী অধ্যাপক ডা. শিরিন জাহান শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আরইআই ইউনিটের প্রতিষ্ঠা, কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানের অন্যান্য অংশ
অতিথিদের স্বাগত জানান ডা. খালেদা নাসরিন ও ডা. দিলরুবা আখতার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহকারী অধ্যাপক ডা. নাফিসা জেসমিন ও ডা. নিঘাত সুলতানা। অনুষ্ঠানের শেষাংশে অধ্যাপক ডা. নিলুফার ইয়াসমিন ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।



