ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত ১,৭১৯, পুনরায় শক্তিশালী পরাঘাত
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত ১,৭১৯, পুনরায় পরাঘাত

ভেনেজুয়েলার উত্তরাঞ্চলে গত সপ্তাহে আঘাত হানা ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার জোড়া ভূমিকম্পের পাঁচ দিন পর সোমবার ভোরে আবারও শক্তিশালী পরাঘাত (আফটারশক) অনুভূত হয়েছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, এই পরাঘাতের মাত্রা ছিল ৪.৬, অন্যদিকে কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা বলছে মাত্রা ছিল ৫.১। রাজধানী কারাকাস ও বিধ্বস্ত বন্দরনগরী লা গুইরা কেঁপে ওঠে, আতঙ্কিত বাসিন্দারা ঘর ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন।

নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১,৭১৯, নিখোঁজ হাজারো

গত সপ্তাহের ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৭১৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ। জাতিসংঘের সমন্বয়কারী জিয়ানলুকা রামপোল্লা দেল তিন্দারো বলেন, 'নিহতের সংখ্যা ইতিমধ্যে জানানো তথ্যের চেয়ে নিশ্চিতভাবেই বেশি হবে।' জাতিসংঘ স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে ১০ হাজার লাশের ব্যাগ দেবে বলে জানিয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ৫ হাজার ৩৪ জন আহত হয়েছেন এবং প্রায় ৮০০ ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পরাঘাতে নতুন করে আতঙ্ক, উদ্ধারকাজে বিঘ্ন

ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির নেতা হোর্হে রদ্রিগেজ জানান, এই পরাঘাতে নতুন করে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে মাটির কম্পন ও সতর্কসংকেত শুনে বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কারাকাসের এল হাতিলো এলাকার বাসিন্দা আমারেলিস মেন্দোজা বলেন, 'আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। কাঁপুনিতে হঠাৎ আমার ঘুম ভেঙে যায়। আগের পরাঘাতগুলো টের না পেলেও আজকের কম্পনটি গত বুধবারের ভূমিকম্পের মতোই শক্তিশালী মনে হয়েছে।'

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সান বার্নার্দিনোতে গত সপ্তাহের ভূমিকম্পে ২২ ইউনিটের 'রিটা' অ্যাপার্টমেন্ট ভবনটি পুরোপুরি ধসে পড়েছে। সোমবারের কম্পনের পর সেখানে উদ্ধারকাজ প্রায় দেড় ঘণ্টার জন্য স্থগিত রাখা হয়। বারবার পরাঘাতে কারাকাস মেট্রোর অবকাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে, কর্তৃপক্ষ বেশ কিছু লাইন আবারও বন্ধ করে দিয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মানবিক সংকট চরমে, আশ্রয় নেওয়া মানুষের সংখ্যা বাড়ছে

নতুন সপ্তাহ শুরুর সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর কিছু দোকানপাট খুলতে শুরু করেছে। তবে মানবিক সংকট গভীর হওয়ায় পার্ক ও গণচত্বরগুলোয় আশ্রয় নেওয়া মানুষের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। কারাকাসের বেলো ক্যাম্পো এলাকার বাসিন্দা ৩৫ বছর বয়সী কাতিউস্কা আসুয়াজে চার সন্তান নিয়ে ঘর ছেড়েছেন। তিনি বলেন, 'যেকোনো কিছুর চেয়ে জীবনের দাম বেশি। ছাদের একটি পলেস্তারা আগেই খসে পড়েছিল। আমরা চাচ্ছিলাম না মাথার ওপর বাড়িটি ধসে পড়ুক। তাই চলে এসেছি।'

কারাকাসের পশ্চিমে ৩৬ বছর বয়সী মারিউরি পেরেজ ও ৪০ বছর বয়সী জাইমে ব্লাঙ্কোর ঘরটি ধসে পড়েছে। পেরেজ বলেন, 'আমাদের এখন একটি তাঁবু বা ঘুমানোর জন্য অন্তত একটি গদি প্রয়োজন। প্রতিবেশীরা আমাদের খাবার দিচ্ছে। কিন্তু আমাদের ঘুমানোর কোনো জায়গা নেই।'

আন্তর্জাতিক সহায়তা ও উদ্ধার তৎপরতা

আন্তর্জাতিক মহলের সহায়তার প্রশংসা করে তিন্দারো জানান, ২৭টি দেশ থেকে ২ হাজারের বেশি উদ্ধারকর্মী এবং ১৬০টির বেশি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর উদ্ধারকাজে পাঠানো হয়েছে। ভেনেজুয়েলার দুটি প্রধান বন্দরের একটি মেরামত করেছে মার্কিন নৌবাহিনী। এখন সেখান দিয়ে প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও সরঞ্জাম সরবরাহ সম্ভব হবে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, 'লা গুইরা বন্দরটি সচল হয়েছে। সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ফোর্ট লডারডেল বন্দরটি ব্যবহার করছে।'

গত রোববার লা গুইরা রাজ্যে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এক ব্যক্তি ও তাঁর কিশোর ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ বলেন, 'আমরা আজকেও জীবিত মানুষ উদ্ধার করেছি। তাই এই উদ্ধার তৎপরতা বন্ধ হবে না।' তবে এল সালভাদর থেকে আসা এক উদ্ধারকর্মী এএফপিকে বলেন, 'এখন ধ্বংসস্তূপের নিচে হয়তো কেবল লাশই পাওয়া যাবে। তবে আমরা আশা ছাড়ছি না। ভাগ্য ভালো থাকলে হয়তো কাউকে জীবিতও পেতে পারি।'

সরকারের সমালোচনা ও চ্যালেঞ্জ

উদ্ধারকাজে ধীরগতি ও পূর্বপ্রস্তুতির অভাব নিয়ে সরকারের সমালোচনা হচ্ছে। উদ্ধারকাজের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে। এখনো হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ। লাখ লাখ মানুষ স্যানিটেশনসহ মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।