দেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষকের শূন্যপদ পূরণের লক্ষ্যে শিগগিরই নতুন গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সংসদে প্রশ্নের জবাবে তথ্য
রবিবার (১৪ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ষষ্ঠ কার্যদিবসে রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
সংসদ সদস্য আখতার হোসেন তার প্রশ্নে জানতে চান, তার এলাকায় সরকারি এবং এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে মোট কতটি শিক্ষকের শূন্যপদ রয়েছে। এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এই শূন্য পদগুলো পূরণে বিশেষ কোনও অগ্রাধিকার বা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে কিনা।
৭৭ হাজার ৭৯৯টি শূন্যপদ
জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষকের শূন্যপদ পূরণের জন্য ই-রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে ৭৭ হাজার ৭৯৯টি শূন্যপদের তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব পদে নিয়োগের জন্য দ্রুত নতুন গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।
তিনি জানান, সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকট নিরসনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর শূন্যপদের তালিকা প্রস্তুত করে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) পাঠানোর জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দেশের বিভিন্ন সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
এনটিআরসিএ’র অটোমেশন প্রক্রিয়া
ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি ও ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশ পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগে জাতীয় মেধাতালিকার ভিত্তিতে সম্পূর্ণ অটোমেশন পদ্ধতিতে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) সুপারিশ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
তিনি জানান, এ প্রক্রিয়ার আওতায় ২০২৫ সালের ১৯ আগস্ট ৪১ হাজার ৬২৭ জন এবং ২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি ১১ হাজার ৭১৩ জনসহ মোট ৫৩ হাজার ৩৪০ জন শিক্ষককে দেশের বিভিন্ন এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
রংপুর-৪ এলাকার শূন্যপদ
মন্ত্রী আরও বলেন, রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) এলাকার শূন্যপদগুলোও জাতীয় মেধাভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়ার আওতায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পূরণ করা হবে। চলমান নিয়োগ কার্যক্রম শেষ হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক সংকট উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে এবং পাঠদান কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।



