ভোলার দৌলতখান উপজেলার মদনপুর ইউনিয়ন একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। মেঘনা নদীর মাঝখানে অবস্থিত এই চরে সরকারি তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও মাধ্যমিক স্তরের জন্য কোনো সরকারি বিদ্যালয় নেই। ফলে প্রাথমিক শিক্ষা শেষেই শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ইতি ঘটত। এই শূন্যতা পূরণে প্রথম আলো ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করে মদনপুর আলোর পাঠশালা।
একমাত্র মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
মদনপুর আলোর পাঠশালাই এখানকার শিক্ষার্থীদের একমাত্র মাধ্যমিক শিক্ষার ঠিকানা। স্থানীয় লোকজন কৃষিকাজ, মেষপালন ও নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাঁদের সন্তানরাই এই পাঠশালায় পড়াশোনা করে। তবে বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর বাসায় চেয়ার-টেবিল নেই। তাই তারা শ্রেণিকক্ষেই বসে বাড়ির পড়া সম্পন্ন করে।
প্রতিকূলতার মাঝে শিক্ষার আলো
শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে নানা প্রতিকূলতা রয়েছে। সয়াবিন বা ধান কাটার মৌসুমে তারা পরিবারকে কৃষিকাজে সহযোগিতা করে। বাগদা বা ইলিশের মৌসুমে ছেলে শিক্ষার্থীরা প্রায় স্কুলশূন্য হয়ে পড়ে। অভাবের কারণে পিতা-মাতাকে আর্থিক সহযোগিতাও করতে হয়। অনেক অভিভাবক সন্তানের পড়াশোনা নিয়ে তেমন চিন্তা করেন না—স্কুলে আসা-না আসা, লেখাপড়া করা-না করা নিয়ে তাদের মাথাব্যথা নেই। এমনকি সন্তান কোন শ্রেণিতে পড়ে, তা-ও বেশির ভাগ বাবা-মা বলতে পারেন না।
বিনা মূল্যে শিক্ষাদান
এমন পরিবেশে আলোর পাঠশালা সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে শিক্ষাদান করছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের আসা-যাওয়া, লেখাপড়া—সব বিষয়ে ভূমিকা রাখছেন। স্থানীয় অভিভাবকরা প্রথম আলো ট্রাস্টের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, 'এমন পরিবেশে শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে লেখাপড়ার ব্যবস্থা করার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।'
মদনপুর আলোর পাঠশালাই এ দ্বীপের শিক্ষার্থীদের জন্য একমাত্র ভরসা। এটি তাদের জীবনকে আলোকিত করছে।



