জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের খোঁজ পাওয়া গেছে। আজ বৃহস্পতিবার নিখোঁজের সাত দিন পর তাঁর সন্ধান মেলে। গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) তিনি নিখোঁজ হয়েছিলেন। আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে তাঁকে পাওয়া যায়।
নিখোঁজ শিক্ষার্থীর বক্তব্য
নিখোঁজ শিক্ষার্থী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমি কেরানীগঞ্জ থেকে এখানে আসছি। আমার মাথা এখন কাজ করছে না। কী হয়েছে, আমি জানাতে পারছি না।’ পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে তাঁর কিছুটা সময় প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পরিবারের বিবরণ
সিরাজুল ইসলামের বাবা আবুল কালাম বলেন, সকালে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন করে তাঁকে জানানো হয়, সিরাজুল বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনে অবস্থান করছেন। তখন তিনি বলেন, ভার্সিটিতে আছেন।
নিখোঁজের ঘটনা ও উদ্যোগ
১৮ জুন থেকে নিখোঁজ ছিলেন সিরাজুল ইসলাম। এরপর তাঁর পরিবার, সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়লে ২৩ জুন উপাচার্যের সভাপতিত্বে একটি জরুরি মতবিনিময় সভাও অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সিরাজুলকে খুঁজে বের করতে প্রশাসন, শিক্ষার্থী প্রতিনিধি, ছাত্রসংগঠন ও গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
উপাচার্যের প্রতিক্রিয়া
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন বলেন, শিক্ষার্থী সিরাজুল ইসলাম নিখোঁজ থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গভীর উদ্বেগে ছিল। বিষয়টি জানার পরপরই প্রশাসন, শিক্ষার্থী প্রতিনিধি, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও সাংবাদিকদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহযোগিতা চাওয়া হয়। প্রক্টরের নেতৃত্বে একটি টিম ধানমন্ডি থানায় কাজ করে।
উপাচার্য আরও বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সিরাজকে সুস্থ ও নিরাপদ অবস্থায় ফিরে পাওয়া গেছে। এ জন্য তিনি পুলিশ প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।



