জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) এক সিনিয়র শিক্ষার্থীর ওপর জুনিয়র শিক্ষার্থীদের হামলার ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকাল ৩টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে তারা ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন।
ঘটনার বিবরণ
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গত ২১ জুন রাতে বিদ্রোহী হলে গাঁজাসেবন সংক্রান্ত অভিযোগকে কেন্দ্র করে আইন ও বিচার বিভাগের ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হান্নান ও দর্শন বিভাগের ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সিফাতুল সিয়াম মুগ্ধের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। পরে রাতে বিদ্রোহী হলের ৬১৫ নম্বর কক্ষে খাবার খাওয়ার সময় মুগ্ধসহ কয়েকজন জুনিয়র শিক্ষার্থী হান্নানের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে।
ক্যাম্পাসে উত্তেজনা
ঘটনার পর আইন ও বিচার বিভাগ এবং দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যা ক্যাম্পাসজুড়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। শিক্ষার্থীরা জানান, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং পূর্ববর্তী একাধিক সংঘর্ষ ও উত্তেজনার যথাযথ সমাধান না হওয়ায় এমন পরিস্থিতি বারবার ঘটছে।
প্রশাসনের পদক্ষেপ
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিতে কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদাকে আহ্বায়ক এবং প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমানকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। কমিটি ঘটনার কারণ, দায়-দায়িত্ব ও সামগ্রিক পরিস্থিতি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করবে।
শিক্ষার্থীদের দাবি
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর ও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। তারা বলেন, "ঘটনার দিন প্রক্টরকে খুঁজে পাওয়া যায়নি, ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। প্রশাসন আসলে কী চায়, তা স্পষ্ট করা উচিত।" তারা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দ্রুত শাস্তির দাবি জানান এবং দ্রুতবিচার নিশ্চিত না হলে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।
প্রক্টরের আশ্বাস
পরে প্রক্টর ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তালা খুলে আন্দোলন স্থগিত রেখে আলোচনার আহ্বান জানান। তিনি বিষয়টি দ্রুত তদন্ত কমিটির মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দেন।



