ভারতীয় শিক্ষার্থীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষা: মুদ্রার দরপতন ও ভিসা জটিলতায় দুশ্চিন্তা
ভারতীয় শিক্ষার্থীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষা: মুদ্রার দরপতনে দুশ্চিন্তা

ভারতের ঝাড়খণ্ডের ২৯ বছর বয়সী কনটেন্ট ক্রিয়েটর প্রগতি প্রিয়া বহু বছরের পরিকল্পনার পর এ বছর ইতালির রোমের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্লোবাল ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্সে মাস্টার্স করতে যাচ্ছেন। তবে ভারতীয় রুপির চরম দরপতনের কারণে তার শিক্ষাঋণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় তিনি উদ্বিগ্ন। প্রিয়া বিবিসিকে বলেন, ‘চিন্তায় আমি রাতে ঘুমাতে পারছি না। আমি এমন কোনো শিক্ষাঋণের বোঝা নিজের মাথায় নিতে চাই না, যে ঋণ আমি কখনোই পুরোপুরি পরিশোধ করে উঠতে পারব না।’

মুদ্রার দরপতন ও বেড়ে যাওয়া খরচ

গত কয়েক মাসে ইউরো, ডলারসহ প্রধান মুদ্রার বিপরীতে ভারতীয় রুপির মান উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এডওয়াইজ ইন্টারন্যাশনালের প্রতিষ্ঠাতা সুশীল সুখওয়ানির মতে, ২০১৯ সাল থেকে প্রধান শিক্ষাগন্তব্য দেশগুলোর মুদ্রার বিপরীতে রুপির মান ৩৫ থেকে ৪৭ শতাংশ কমে গেছে। এর ফলে বিদেশে পড়ার খরচ অনেক বেড়ে গেছে। প্রিয়ার মতো শিক্ষার্থীরা এখন ঋণের বোঝা নিয়ে শঙ্কিত।

ভর্তি কমছে প্রধান গন্তব্যে

সুখওয়ানি বিবিসিকে জানান, গত দুই বছরে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় শিক্ষার্থী ভর্তি প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে এবং আগামীতে আরও ১০-১৫ শতাংশ কমবে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। ২০২৫ সালে ১২ লাখের বেশি ভারতীয় শিক্ষার্থী বিদেশে উচ্চশিক্ষায় গেছেন, যা চীনকে ছাড়িয়ে গেছে। তবে বর্তমান প্রবণতা উদ্বেগজনক।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিকল্প গন্তব্যের দিকে ঝোঁক

ব্যয়বহুল যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের পরিবর্তে শিক্ষার্থীরা এখন জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, ইতালির মতো দেশে আগ্রহী হচ্ছেন। ইউনিভার্সিটি লিভিংয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা ময়াঙ্ক মহেশ্বরী বলেন, কম টিউশন ফি, পড়াশোনাপরবর্তী কাজের সুযোগ ও ভালো চাকরির সম্ভাবনা এসব দেশকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। প্রিয়াও ইতালি বেছে নিয়েছেন কারণ সেখানে খরচ যুক্তরাজ্যের অর্ধেক এবং ডিগ্রি এক বছরে শেষ করা যায়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভিসা জটিলতা ও চাকরির বাজার

যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের কঠোর ভিসা নীতি এবং অভিবাসন দমননীতি শিক্ষার্থীদের জন্য বাধা তৈরি করছে। নর্থ আমেরিকা অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ান স্টুডেন্টসের প্রতিষ্ঠাতা সুধাংশু কৌশিক বলেন, শিক্ষার্থীরা স্নাতক শেষে অস্থায়ী বা চুক্তিভিত্তিক কাজে বাধ্য হচ্ছেন, যা আগে শুধু খরচ চালানোর জন্য ছিল। মুদ্রার অবমূল্যায়ন, এআইয়ের উত্থান ও ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি মিলে ‘পারফেক্ট স্টর্ম’ তৈরি হয়েছে।

ভবিষ্যৎ প্রতিবন্ধকতা

গ্লোবাল স্টুডেন্ট ফ্লোস রিপোর্ট ২০২৬ অনুযায়ী, ২০৩০ সাল পর্যন্ত প্রধান চার গন্তব্যে (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া) ভারতীয় শিক্ষার্থী ভর্তি গড়ে ০.৫% হারে কমবে। তবে বিকল্প গন্তব্যের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। কৌশিকের মতে, এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয় ও অর্থনীতি সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।