৮৪ বছর বয়সে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন মিশরীয় নারীর
মিশরের আমাল ইসমাইল ৮৪ বছর বয়সে মানসুরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম শ্রেণির সম্মানসহ পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তাঁর গবেষণার শিরোনাম ছিল 'সক্রিয় বার্ধক্য এবং কিছু সমাজতাত্ত্বিক চলকের সঙ্গে এর সম্পর্ক: মানসুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত কিছু কেস স্টাডি'।
জীবনের সংগ্রাম ও শিক্ষার পথ
আমাল ইসমাইলের জন্ম মিশরের একটি প্রত্যন্ত গ্রামে। শৈশবে বিদ্যালয়ের বেঞ্চে বসার সুযোগ পাননি। অল্প বয়সে বিয়ে, সংসার ও চার সন্তানের মা হিসেবে জীবন কেটেছে। ৩৮ বছর বয়সে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও সংসারের দায়িত্ব তাঁকে পুনরায় পড়াশোনা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধি দুবার আঘাত হানে, কিন্তু প্রতিবারই তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন।
৭০ বছর বয়সে পুনরায় শিক্ষা
৭০ বছর বয়সে তাঁর মেয়ে ও নাতি-নাতনিদের অনুপ্রেরণায় তিনি উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করে মানসুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। সেখান থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করে গবেষণায় মনোনিবেশ করেন।
গবেষণা ও ডক্টরেট অর্জন
মিশরের নীল বদ্বীপ অঞ্চলের মানসুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদে পিএইচডি থিসিস ডিফেন্সে অংশ নিয়ে তিনি সফলভাবে ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিচারক প্যানেল তাঁর গবেষণার বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব বিবেচনা করে বিশেষ কৃতিত্বের সঙ্গে ডক্টরেট প্রদান করে। গবেষণাপত্রটি প্রকাশ ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বিনিময়ের সুপারিশ করা হয়।
গবেষণার লক্ষ্য ও প্রভাব
তিনি মিশরের দাকাহলিয়া গভর্নরেটের বিভিন্ন গ্রামের ২০ জন নারীর ওপর গবেষণা পরিচালনা করেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল প্রবীণদের জীবন, সামাজিক চ্যালেঞ্জ ও সক্রিয় বার্ধক্য নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
প্রেরণার উৎস
আমাল ইসমাইলের জীবন প্রমাণ করে, বয়স জ্ঞান অর্জনের অন্তরায় নয়। ইচ্ছাশক্তি ও অধ্যবসায় থাকলে যেকোনো বয়সে শিক্ষা গ্রহণ সম্ভব। তাঁর এই সাফল্য বাংলাদেশের নারীসহ সবার জন্য প্রেরণার উৎস।



