বাংলাদেশের নতুন শিক্ষাক্রমে বড় পরিবর্তন: মূল্যায়ন পদ্ধতি ও পাঠ্যপুস্তকে সংস্কার
নতুন শিক্ষাক্রমে বড় পরিবর্তন: মূল্যায়ন ও পাঠ্যপুস্তকে সংস্কার

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে চলেছে সরকার। নতুন শিক্ষাক্রমে মূল্যায়ন পদ্ধতি ও পাঠ্যপুস্তকে বড় সংস্কার করা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানিয়েছেন, নতুন এই শিক্ষাক্রমে শিক্ষার্থীদের শিখনফলের ওপর জোর দেওয়া হবে এবং বার্ষিক পরীক্ষার পরিবর্তে ধারাবাহিক মূল্যায়ন চালু করা হবে।

নতুন শিক্ষাক্রমের মূল বৈশিষ্ট্য

নতুন শিক্ষাক্রমে প্রাক-প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সমন্বিত ও গতিশীল শিক্ষাব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। এতে মুখস্থবিদ্যার পরিবর্তে বাস্তবমুখী শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা যাতে নিজেদের আগ্রহ ও দক্ষতা অনুযায়ী শিক্ষাগ্রহণ করতে পারে, সেজন্য নমনীয় বিষয় নির্বাচনের সুযোগ রাখা হয়েছে।

নতুন শিক্ষাক্রমে নয়টি সাধারণ শিক্ষা ক্ষেত্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হলো: ভাষা ও যোগাযোগ, গণিত, বিজ্ঞান, সামাজিক ও মানবিক বিজ্ঞান, শিল্প ও সংস্কৃতি, শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, ডিজিটাল ও প্রযুক্তি শিক্ষা, এবং জীবনের জন্য শিক্ষা।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মূল্যায়ন পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন

নতুন শিক্ষাক্রমে মূল্যায়ন পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে শিক্ষার্থীদের শিখনফলের ওপর ভিত্তি করে মূল্যায়ন করা হবে। বার্ষিক পরীক্ষার পরিবর্তে সারা বছর ধরে ধারাবাহিক মূল্যায়ন চালু থাকবে। এতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শিখন অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, 'নতুন শিক্ষাক্রমে আমরা শিক্ষার্থীদের শিখনফলের ওপর জোর দিয়েছি। তারা কী শিখছে, তা বোঝার জন্য ধারাবাহিক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করছি। এতে শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ কমবে এবং তারা আনন্দের সঙ্গে শিখতে পারবে।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পাঠ্যপুস্তকে সংস্কার

নতুন শিক্ষাক্রমের আলোকে পাঠ্যপুস্তকেও ব্যাপক সংস্কার আনা হয়েছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ইতিমধ্যে নতুন শিক্ষাক্রমের জন্য পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে। নতুন পাঠ্যপুস্তকে বাস্তবমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হবে।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম জানান, 'নতুন শিক্ষাক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমরা পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন করছি। এতে শিক্ষার্থীদের শিখনফল অর্জনে সহায়তা করবে এমন বিষয়বস্তু রাখা হচ্ছে।'

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে বাস্তবায়ন

প্রাথমিক স্তরে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের জন্য ইতিমধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ২০২৩ সালের মধ্যে প্রাথমিক স্তরের সব শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম চালু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মাধ্যমিক স্তরে পর্যায়ক্রমে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়া প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও উপকরণ সরবরাহেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের মতামত

নতুন শিক্ষাক্রম সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা ইতিবাচক মতামত দিয়েছেন। ঢাকার একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষার্থী রিফাত হোসেন বলেন, 'নতুন শিক্ষাক্রমে আমরা নিজেদের আগ্রহ অনুযায়ী বিষয় নির্বাচন করতে পারব। এতে আমাদের শিখতে আগ্রহ বাড়বে।'

অপর শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, 'ধারাবাহিক মূল্যায়ন পদ্ধতি আমাদের ওপর চাপ কমাবে। আমরা নিয়মিত পড়াশোনা করলে ভালো ফল করতে পারব।'

চ্যালেঞ্জ ও সমাধান

নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষকের অভাব, প্রশিক্ষণের ঘাটতি ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, 'নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহের জন্য কাজ চলছে। আমরা আশা করি, এই শিক্ষাক্রম শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য প্রস্তুত করবে।'

উপসংহার

বাংলাদেশের নতুন শিক্ষাক্রম শিক্ষাব্যবস্থায় একটি মাইলফলক হতে চলেছে। শিক্ষার্থীদের শিখনফলের ওপর জোর দেওয়া এবং ধারাবাহিক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করার মাধ্যমে শিক্ষার গুণগত মান উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারের পাশাপাশি অভিভাবক ও শিক্ষকদেরও এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে হবে।