১৮তম জাতীয় অ্যাবাকাস প্রতিযোগিতায় ৩৪৫ শিক্ষার্থীর পুরস্কার লাভ
আলোহা বাংলাদেশের সৌজন্যে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) গত শুক্রবার থেকে দুই দিনব্যাপী আয়োজিত ১৮তম জাতীয় অ্যাবাকাস ও মেন্টাল অ্যারিথমেটিক প্রতিযোগিতা ২০২৬-এ সারা দেশের ৬ শতাধিক স্কুল থেকে ৩ হাজার ৪০০ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এই প্রতিযোগিতায় ৫টি ক্যাটাগরিতে মোট ৩৪৫ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে, যা তাদের গণিত দক্ষতা ও মেধার উজ্জ্বল প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রতিযোগিতার বিস্তারিত ও পরীক্ষার পদ্ধতি
প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের ৫ মিনিটের মধ্যে ৭০টি জটিল গাণিতিক সমস্যা সমাধান করতে বলা হয়েছিল। বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্ভুলভাবে এই সমাধানগুলি সম্পন্ন করে, যা তাদের মানসিক গণনার অসাধারণ দক্ষতা প্রদর্শন করে। ২০০৮ সাল থেকে বাংলাদেশে এই প্রতিযোগিতা আয়োজন করে আসছে আলোহা বাংলাদেশ, যার মূল উদ্দেশ্য হলো শিশুদের দ্রুত ও নির্ভুলভাবে গাণিতিক সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা পরীক্ষা করা এবং তাদের মেধা বিকাশে উৎসাহিত করা।
দুই দিনের আয়োজনের ধারাবাহিকতা
প্রথম দিন গত শুক্রবার জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয় এবং আলোহা মেন্টাল অ্যারিথমেটিকের প্রতিষ্ঠাতা লোহ মুন সাঙের উপস্থিতিতে উদ্বোধনী পর্ব সম্পন্ন হয়। এরপর দিনব্যাপী পরীক্ষায় ৫টি ব্যাচে প্রায় ৩ হাজার ৪০০ জন অংশগ্রহণ করে। দ্বিতীয় দিন গত শনিবার বিকেলে গ্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন, চ্যাম্পিয়ন, প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় রানারআপসহ ৫টি ক্যাটাগরিতে মোট ৩৪৫ জনকে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
অতিথিবৃন্দ ও তাদের বক্তব্য
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলোহা মেন্টাল অ্যারিথমেটিকের প্রতিষ্ঠাতা লোহ মুন সাঙ। বিশেষ অতিথিদের মধ্যে ছিলেন আলোহা ইন্টারন্যাশনালের ডিরেক্টর কিরণ মাতওয়ানি, বাংলাদেশে নিযুক্ত আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত ড. আবদেলোহাব সাইদানি, ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান এবং আলোহা কম্বোডিয়ার কর্মকর্তা আনফেকডে ওউচ ও কিমহাই হিউন। এছাড়া আলোহা বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলী হায়দার চৌধুরী, চেয়ারম্যান সাইফুল করিম ও পরিচালক মো. শামসুদ্দিন টিপুও উপস্থিত ছিলেন।
স্বাগত বক্তব্যে মো. আলী হায়দার চৌধুরী বলেন, 'আমরা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে কাজ করছি, তাই শুরুটা করেছি জ্ঞান ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে, যেন আমাদের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দিতে পারে।' কিরণ মাতওয়ানি অভিভাবকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, 'শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, আজকের বিজয়ী সেই অভিভাবকেরাও, যাঁরা তাঁদের সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করছেন।' ড. আবদেলোহাব সাইদানি মন্তব্য করেন, 'এই প্রতিযোগিতা অংশগ্রহণকারীদের নিজেদের সম্ভাবনা প্রকাশ ও নতুন প্রতিভা আবিষ্কারের মূল্যবান সুযোগ তৈরি করে।'
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে অতিথিদের শুভেচ্ছা স্মারক এবং আলোহার গ্র্যাজুয়েটেড শিক্ষকদের সনদ প্রদান করা হয়। সাংস্কৃতিক পর্বে কালচারাল গ্রুপ ‘কাদামাটি’ একটি গীতি-নৃত্য-নাট্য পরিবেশন করে। জাতীয় পর্যায়ে উন্নীত শিক্ষার্থীরা এ বছর পানামায় অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ পাবে, যা তাদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মেধা প্রদর্শনের একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ।
আলোহা বাংলাদেশের কার্যক্রম ও অংশীদারিত্ব
এই আয়োজনের হেলথ কেয়ার পার্টনার ছিল ওমনিকেয়ার ডায়াগনস্টিক লিমিটেড এবং ইভেন্ট অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার ছিল হ্যাশট্যাগ কমিউনিকেশন লিমিটেড। উল্লেখ্য, ১৯ বছরের পথচলায় বর্তমানে আলোহা বাংলাদেশের ১০০টির বেশি শাখায় ২৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী যুক্ত আছে। ২০০৬ সালের মার্চ থেকে বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে আলোহা বাংলাদেশ, যা একটি আইএসও সনদপ্রাপ্ত লার্নিং সিস্টেম হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, চীন, ভারত, মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের ৪২টি দেশের ৬০ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর সঙ্গে কাজ করে চলেছে।



