১৮৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী লাইব্রেরি রক্ষায় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের উদ্যোগ
পুরোনো লাইব্রেরি রক্ষায় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল

১৮৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী লাইব্রেরি রক্ষায় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের উদ্যোগ

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে অবস্থিত ১৮৪০ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক কুমার দ্বীজেন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরি রক্ষায় এগিয়ে এসেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। শনিবার বিকালে লাইব্রেরি পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সুধীজনের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এই ঘোষণা দেন।

ঐতিহ্যবাহী পাঠাগারের বর্তমান অবস্থা

১৮৫ বছরের পুরোনো এই লাইব্রেরিটি এক সময় বৃহত্তর ময়মনসিংহের আইনজীবী, জ্ঞানীগুণী ও সাহিত্যিকদের মিলনস্থল ছিল। তবে বর্তমানে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকায় স্থানীয় ভূমিখেকোরা পাঠাগারের অধিকাংশ জায়গা বেদখল করে নিয়েছে। বাউন্ডারি না থাকায় অবকাঠামোগত ক্ষতি হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার না হলে অচিরেই হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এলাকাবাসী বেদখল হওয়া জায়গা উদ্ধার, বাউন্ডারি নির্মাণ, আসবাবপত্র সংস্কার এবং চাহিদামাফিক বই ক্রয়সহ পাঠাগারটি পুনরায় চালুর জোর দাবি জানিয়েছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ডেপুটি স্পিকারের প্রতিশ্রুতি ও পরিকল্পনা

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, "শিক্ষার মানোন্নয়নে পাঠাগারের বিকল্প নেই। জ্ঞান অর্জনের মূল উৎস হলো বই, আর বইয়ের সুশৃঙ্খল সমাবেশস্থল হলো পাঠাগার।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে শিক্ষাক্ষেত্রে এগিয়ে থাকা দেশগুলোতে সমৃদ্ধ লাইব্রেরি রয়েছে, যা বিজ্ঞান, শিল্প ও সাহিত্যকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করে।

স্থানীয় সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে ডেপুটি স্পিকার বলেন, "আমার মনে হয় এই লাইব্রেরিটি দেশের একমাত্র পুরোনো পাঠাগার। সবার সহযোগিতা পেলে সরকারের পক্ষ থেকে কুমার দ্বীজেন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরিকে দেশের প্রথমসারির পাঠাগারে পরিণত করা হবে।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পাঠাগার পুনরুজ্জীবনের সম্ভাব্য প্রভাব

  • স্থানীয় যুবসমাজ উপকৃত হবে এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখবে
  • সাংস্কৃতিক চর্চা বৃদ্ধি পাবে
  • দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা উপজেলার আদিবাসী সম্প্রদায়সহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ উপকৃত হবেন
  • শিক্ষা ও গবেষণার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে

এ সময় নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, জেলা পরিষদের প্রশাসক, স্পিকারের একান্ত সচিব, শিক্ষা প্রকৌশল দপ্তরের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

১৮৪০ সালে সুসঙ্গ পরগনার মহারাজা ভূপেন্দ্র চন্দ্র সিংহ শর্ম্ম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এই কুমার দ্বীজেন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরি। ময়মনসিংহ পরগনার শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিতে এই প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। এখন ডেপুটি স্পিকারের এই উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী পাঠাগারটি আবারও জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।