ঝালকাঠিতে ‘বন্ধুসভা মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড ২০২৬’ অনুষ্ঠিত, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস চর্চায় জোরালো আহ্বান
ঝালকাঠি সরকারি মহিলা কলেজের কলা ভবনের অডিটোরিয়ামে ‘বন্ধুসভা মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথি প্রফেসর মো. ইলিয়াস ব্যাপারী বলেন, ‘এই স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে হৃদয়ে ধারণ করে তা রক্ষা করতে হবে। বর্তমান প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে এবং হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। বেশি বেশি মুক্তিযুদ্ধের বই পড়তে হবে।’ ঝালকাঠি বন্ধুসভার আয়োজনে এই অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ইতিহাস তুলে ধরা হয়, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত করতে ভূমিকা রাখে।
অতিথিদের বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ ও শিক্ষা
প্রধান আলোচক বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন আনু তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধারা কোনো কিছু পাওয়ার আশা করে যুদ্ধ করেননি। মুক্তিযোদ্ধারা দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন।’ তিনি ঝালকাঠি জেলার তিনটি স্থানের মা-বোন ও মুক্তিযোদ্ধাদের একাত্তরের পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্যাতনের কথা বলতে গিয়ে অঝোরে কেঁদে দেন, যা পুরো হলরুমের শিক্ষার্থীদের নীরব করে দেয় এবং তারা মনোযোগ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস শোনেন।
বন্ধুসভার উপদেষ্টা আইনজীবী সাকিনা আলম লিজা বলেন, ‘দীর্ঘ ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ আর দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমরা এই স্বাধীনতা পেয়েছি। বর্তমান প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিতর্ক করা যাবে না। কারণ, আজকের এই তরুণেরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ।’
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের দৃষ্টিভঙ্গি ও পুরস্কার বিতরণ
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব প্রশান্ত দাস হরি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ না হলে বাংলাদেশ নামের এ দেশ আমরা পেতাম না। আমরা পরাধীন থাকতাম, দেশীয় সংস্কৃতিচর্চা বাধাগ্রস্ত হতো। শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সুযোগ থেকে এ দেশের মানুষ বঞ্চিত হতো।’ তিনি আরও যোগ করেন, মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়েই এ দেশ স্বাধীন হয়েছে এবং সংস্কৃতি ও দেশের সঠিক ইতিহাস জেনে দেশকে ভালোবাসতে হবে।
ঝালকাঠি বন্ধুসভার সভাপতি শাকিল হাওলাদারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রাহাত মাঝির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলোর প্রতিনিধি মাহামুদুর রহমান। মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড কুইজ প্রতিযোগিতায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে এবং পাঁচজন বিজয়ী ঘোষিত হয়। বিজয়ীদের তালিকা নিম্নরূপ:
- প্রথম: খাদিজা আক্তার
- দ্বিতীয়: তিথী পাল
- তৃতীয়: জাইমা খানম
- চতুর্থ: সানজিদা ইসলাম
- পঞ্চম: উম্মে সালমা
অতিথিরা বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন, যা অনুষ্ঠানের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
আয়োজনে অংশগ্রহণকারী ও সফলতা
এই আয়োজনটি সফল করতে বন্ধুসভার সাংগঠনিক সম্পাদক রোহান বিন নাসির, সহসাংগঠনিক সম্পাদক তহমিনা আক্তার, প্রচার সম্পাদক শাহরিয়ার ইসলাম, অর্থ সম্পাদক সোহান খান, মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক জান্নাতুল ইয়াসমিন, কার্যনির্বাহী সদস্য শাহরিয়ার পাপনসহ বন্ধুসভার অন্যান্য সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। অনুষ্ঠানটি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস চর্চা ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশপ্রেম সৃষ্টির একটি কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে স্বীকৃত হয়, যা ভবিষ্যতেও অনুরূপ উদ্যোগের অনুপ্রেরণা যোগাতে পারে।



