সাতক্ষীরায় বন্ধুসভার মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াডে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও বিজয়
সাতক্ষীরা জেলায় নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও তাৎপর্য ছড়িয়ে দিতে বন্ধুসভা মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড-২০২৬ আয়োজন করা হয়েছে। ৩০ মার্চ জেলা শহরের নবারুণ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের হলরুমে উৎসবমুখর পরিবেশে এই অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়। মুক্তিযুদ্ধের আলোয় জাগ্রত তারুণ্য স্লোগানে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং ভাষাশহীদসহ মহান মুক্তিযুদ্ধের সব বীর শহীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
কুইজ প্রতিযোগিতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধার উপস্থিতি
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতা, যেখানে বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়। কুইজ চলাকালে কেন্দ্র পরিদর্শন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সুভাষ চন্দ্র সরকার। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশকে ভালোবাসতে হলে আগে তার সঠিক ইতিহাস জানতে হবে। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের বইয়ের বাইরের সত্য ইতিহাস জানতে অনুপ্রাণিত করছে। তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন যখন শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিচ্ছিলেন।
সাংস্কৃতিক পর্ব ও শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া
লিখিত পরীক্ষা শেষে উত্তরপত্র মূল্যায়নের পাশাপাশি একটি সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নওরিন উলফাত, রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর লেখা মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি কবিতা আবৃত্তি পরিবেশন করে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীরা আমন্ত্রিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে মুক্তিযুদ্ধকালীন বাস্তব অভিজ্ঞতার গল্প শোনার অনন্য সুযোগ পায়। অংশগ্রহণকারী সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাজিন রহমান বলেন, পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে এত কিছু জানার আছে, তা আজ বুঝতে পারলাম। আমাদের ইতিহাসের বীরত্বগাথা জেনে আমরা গর্বিত।
বিজয়ীদের পুরস্কার ও আলোচনা সভা
কুইজ প্রতিযোগিতায় ১০ জন বিজয়ীর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। প্রথম স্থান অধিকার করে নবম শ্রেণির পূজা ঘোষ, দ্বিতীয় স্থান দশম শ্রেণির উম্মে হাফসা এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করে দশম শ্রেণির জান্নাতুল ফেরদাউস। বিজয়ীদের পুরস্কার হিসেবে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বই প্রদান করা হয়। সাতক্ষীরা বন্ধুসভার উপদেষ্টা জাহিদা জাহানের সঞ্চালনায় এবং সভাপতি মৃত্যুঞ্জয় কুমার বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সুভাষ চন্দ্র সরকার, নবারুণ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল মালেক গাজী এবং সহকারী শিক্ষক নাজমুন লাইলী বীথি। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক কল্যাণ ব্যানার্জি।
এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জাগ্রত করতে এবং ইতিহাসের গুরুত্ব তুলে ধরতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। সাতক্ষীরা বন্ধুসভার এই উদ্যোগ দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও অনুপ্রাণিত করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।



