চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার সময়সূচিতে স্লোগান নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্ক
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষার সময়সূচিতে একটি রাজনৈতিক স্লোগান ছাপা হওয়ায় তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল রোববার প্রকাশিত এই সূচিতে 'শিক্ষা নিয়ে গড়ব দেশ, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ' স্লোগানটি অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক রকিবা নবীর স্বাক্ষরসহ বিতরণ করা হয়। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই বিষয়টি নজরে এলে স্লোগানবিহীন নতুন সময়সূচি শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। আজ সোমবার এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে।
সময়সূচির বিবরণ ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া
পরীক্ষার সময়সূচি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষার সূচির ওপরের মধ্যভাগে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগোর নিচে স্লোগানটি স্পষ্টভাবে লেখা ছিল। এতে উল্লেখ করা হয়েছিল যে আগামী ২০ এপ্রিল থেকে পরীক্ষা শুরু হবে এবং সূচি প্রকাশের তারিখ হিসেবে '২৯ মার্চ ২০২৫' নির্দেশিত ছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানান, প্রথমে স্লোগানসংবলিত সূচিটি দেওয়া হলেও পরে বিভাগ থেকে নতুন সূচি সরবরাহ করা হয়। তিনি বলেন, 'এ ধরনের স্লোগান থাকা আমরা নেতিবাচকভাবে দেখছি। তবে এ কারণে পরীক্ষার কোনো বিঘ্ন ঘটুক, সেটিও আমরা চাই না।' এই দ্রুত প্রতিক্রিয়া বিভাগের পক্ষ থেকে বিতর্ক নিষ্পত্তির চেষ্টা হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
বিভাগীয় সভাপতি ও প্রশাসনের ব্যাখ্যা
জানতে চাইলে আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক রকিবা নবী বলেন, 'স্লোগানসংবলিত প্যাডটি আগে থেকেই বাতিল করা হয়েছিল। ঈদের ছুটির পর ব্যস্ততার মধ্যে অফিস থেকে দ্রুত প্রিন্ট করা কাগজে আমি ভালোভাবে না দেখে সই করি। পরে শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর সঙ্গে সঙ্গে সেটি বাতিল করে নতুন প্যাডে রুটিন প্রকাশ করা হয়।' তার এই ব্যাখ্যা বিভাগের অভ্যন্তরীণ ত্রুটির দিকে ইঙ্গিত করে। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, স্লোগানসংবলিত প্যাড ব্যবহার না করার বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। তবে মিতব্যয়িতার কথা বিবেচনায় নিয়ে কালি দিয়ে মুছে ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, 'কেউ যদি স্লোগানসংবলিত প্যাড ব্যবহার করে থাকে, অভিযোগ পেলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ভুলবশত হয়ে থাকলে সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হবে।' এই মন্তব্য প্রশাসনের নমনীয়তা ও জবাবদিহিতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা প্রতিফলিত করে।
শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া ও সামাজিক মাধ্যমের প্রভাব
এই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক বার্তা অগ্রহণযোগ্য। একইসাথে, কিছু শিক্ষার্থী পরীক্ষার প্রস্তুতিতে কোনো বিঘ্ন না ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছেন। এই বিতর্ক বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তদারকি ও নীতিমালা বাস্তবায়নে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সামগ্রিকভাবে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের এই ঘটনা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে তুলে ধরেছে।



