পাবনায় মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াডে পুরস্কার বিজয়ী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা
পাবনায় মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াডে বিজয়ীদের সংবর্ধনা

পাবনায় মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াডে নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ

পাবনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে শুক্রবার সকালে বন্ধুসভা মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘মুক্তিযুদ্ধের আলোয় জাগ্রত তারুণ্য’ স্লোগানে মার্চ মাসজুড়ে দেশব্যাপী এ আয়োজন নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, চেতনা ও মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে পরিচালিত হচ্ছে। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা বেবী ইসলাম, যিনি মুক্তিযুদ্ধের ঐক্যবদ্ধ চেতনা তুলে ধরেন।

দেশ গঠনে নতুন প্রজন্মের ভূমিকা

বেবী ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল অধিকার আদায়ের যুদ্ধ, যেখানে দল-মতের কোনো স্থান ছিল না। সবাই মিলে যুদ্ধে নামায় দেশ স্বাধীন হয়েছে, কিন্তু স্বাধীনতার পূর্ণ লক্ষ্যে এখনো পৌঁছানো যায়নি। বারবার দেশে রক্ত ঝরেছে, মুক্তিযোদ্ধারা একটি সুন্দর দেশ গড়তে চেয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের মতোই সবাই মিলে দেশটাকে গড়তে হবে, এবং নতুন প্রজন্মকে এ দায়িত্ব নিতে হবে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারী অস্ত্রের অভাব ছিল, কিন্তু কঠোর মনোবল ও কাঠের রাইফেল নিয়ে হানাদার বাহিনীকে পরাস্ত করা সম্ভব হয়েছিল। দেশ গঠনে নতুন প্রজন্মকেও মনোবল নিয়ে মাঠে নামতে হবে এবং সকল অপশক্তি রুখে দিয়ে সুন্দর ও সুশৃঙ্খল দেশ গড়তে হবে।

অনুষ্ঠানের বিবরণ ও অংশগ্রহণ

পাবনা বন্ধুসভার সভাপতি রাশেদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাবেক সভাপতি নাহিদুজ্জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তানেরা বক্তব্য দেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রথম আলোর পাবনা প্রতিনিধি সরোয়ার মোর্শেদ। অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইসমত, পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. আখতারুজ্জামান, সাবেক সভাপতি এ বি এম ফজলুর রহমান, বন্ধুসভার উপদেষ্টা শিক্ষক আবদুল খালেক এবং অলিম্পিয়াডে অংশ নেওয়া ইমাম গাজ্জালী স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান উপস্থিত ছিলেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইসমত পাবনা জেলায় মুক্তিযুদ্ধের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘এ দেশ অনেক রক্তের বিনিময়ে অর্জিত, এবং এ রক্তের মর্যাদা সবাইকে রাখতে হবে। কোনো দল-মত দেখলে চলবে না, সবাই মিলে দেশটাকে গড়ে তুলতে হবে।’

কুইজ প্রতিযোগিতা ও বিজয়ী তালিকা

অনুষ্ঠানের শুরুতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতায় জেলা শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮২ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। উত্তরপত্র মূল্যায়নের মাধ্যমে ১৩ জনকে বিজয়ী নির্বাচিত করা হয়। কলেজ পর্যায়ে শহীদ বুলবুল সরকারি কলেজের শামীম উদ্দিন প্রথম স্থান অধিকার করেন, সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের শাহরিয়ার হোসেন দ্বিতীয় হন, এবং শহীদ বুলবুল সরকারি কলেজের আতকিয়া ফারজানা, মিতুসি ইসলাম, সোহানুর রহমান এবং সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের রোজোয়ানুল ইসলাম যৌথভাবে তৃতীয় স্থান লাভ করেন।

মাধ্যমিক পর্যায়ে পাবনা কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের রিফাত খান প্রথম হন, একই স্কুলের তাজকিয়াতুন মাইশা দ্বিতীয় হন, এবং যৌথভাবে মনোহরপুর ব্র্যাক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আলিফ হোসেন, পাবনা জেলা স্কুলের মেহযাদ যুবায়েদ, ব্র্যাক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তাসফিয়া তাবাচ্ছুম ও আতিকা আলো তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। প্রাথমিক পর্যায়ে ব্র্যাক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আয়েশা খাতুন বিজয়ী হন। অনুষ্ঠানের শেষে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে উপহার হিসেবে বই তুলে দেন অতিথিরা। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়েছিল।