২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অভিন্ন প্রশ্নপত্র ও সিসি ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত
২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অভিন্ন প্রশ্নপত্র ও সিসি ক্যামেরা স্থাপন

২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অভিন্ন প্রশ্নপত্র ও সিসি ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত

২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সভায় পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

পরীক্ষার সময়সূচি সংস্কার ও বিষয় কমানোর প্রস্তুতি

শিক্ষা মন্ত্রণালয় বর্তমানে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের সময় সাশ্রয় করতে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা প্রতিবছর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার সম্ভাব্যতা যাচাই করছে। করোনা মহামারীর পর থেকে এই দুই পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচি পিছিয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় সময়সূচি সংস্কারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া ভবিষ্যতে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় বিষয় কমানোর প্রয়োজনীয়তা ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই কমিটি পরীক্ষার বিষয়বস্তু হালনাগাদ ও যুগোপযোগী করার সুপারিশ করবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অভিন্ন প্রশ্নপত্র ও সিসি ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত

সভায় ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় দেশের সব শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এই পদক্ষেপ পরীক্ষার মান ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি পরীক্ষাকক্ষে বাধ্যতামূলকভাবে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা (সিসি ক্যামেরা) স্থাপন করার বিষয়েও আলোচনা করা হয়েছে। এই প্রযুক্তির ব্যবহার নকল ও অনিয়ম রোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নকল প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন সভায় স্পষ্টভাবে জানান, শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে নকলমুক্ত পরিবেশের কোনো বিকল্প নেই। তিনি অতীতে শিক্ষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণে নকল প্রতিরোধের সাফল্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেন এবং ভবিষ্যতেও সেই ধারা বজায় রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

পরীক্ষায় নকল ও অনিয়ম নির্মূল করতে 'জিরো টলারেন্স বা শূন্য সহনশীলতা' নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। বিভাগীয় শহরগুলোতে কেন্দ্র সচিব ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

আসন্ন এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি

সভায় আসন্ন এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রগুলোর বাস্তব অবস্থা ও সমস্যা চিহ্নিত করতে সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেওয়া হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।

বর্তমানে একজন শিক্ষার্থী মাধ্যমিক পর্যায়ে যে বছর দশম শ্রেণির ক্লাস শেষ করে তার পরের বছর এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পায়। এইচএসসি পরীক্ষার ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। দীর্ঘদিন ধরে এসএসসি পরীক্ষা ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে এবং এইচএসসি পরীক্ষা এপ্রিলের শুরুতে শুরু হতো। তবে করোনা সংক্রমণজনিত পরিস্থিতির পর থেকে সেই সূচি মানা যাচ্ছে না। নতুন এই সংস্কারমূলক পদক্ষেপগুলো শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।