ছাত্রদল সভাপতির অভিযোগ: ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ছাত্রলীগের একনিষ্ঠ কর্মী
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভাইস প্রেসিডেন্ট সাদিক কায়েমকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একনিষ্ঠ কর্মী বলে অভিযোগ করেছেন। বুধবার (২৫ মার্চ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন, যা শিক্ষাঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
ফেসবুক পোস্টে রাকিবের দাবি
রাকিবুল ইসলাম রাকিব তার পোস্টে লিখেছেন, '২০১৮ সালের ৩১ জুলাই রাত ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। নবগঠিত কমিটিতে শোভন সভাপতি এবং গোলাম রাব্বানী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। কমিটি ঘোষণার ১ ঘণ্টার মধ্যে সূর্যসেন হল শাখা ছাত্রলীগের একনিষ্ঠ কর্মী ছাত্রলীগের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে লবিং করার জন্য ব্যাকুল হয়ে এসএমএস করেন।'
তিনি আরও উল্লেখ করেন, 'সূর্যসেন হল শাখা ছাত্রলীগের শীর্ষ পদ প্রাপ্তির আশায় ছাত্রলীগের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ রক্ষা করেছেন সাদিক কায়েম। অথচ ৫ আগস্টের পর থেকে সেই ছাত্রলীগের একনিষ্ঠ কর্মীই আজ দেশ, জাতিকে সাহসীকতার গল্প শোনায়!' পোস্টের শেষে তিনি 'History repeats itself' অর্থাৎ ইতিহাস সবসময় নিজেই পুনরাবৃত্তি করে, এই মন্তব্য যোগ করেন।
ভাইরাল স্ক্রিনশট ও গোলাম রাব্বানীর প্রতিক্রিয়া
এর আগে বুধবার নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে পাঠানো ডাকসুর বর্তমান ভিপি সাদিক কায়েমের পুরনো টেক্সটের একটি স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। স্ক্রিনশটটি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আবদুল কাদের শেয়ার করেছেন।
ভাইরাল স্ক্রিনশটে দেখা যায়, ২০১৮ সালের ১ আগস্ট সাদিক কায়েম গোলাম রাব্বানীকে 'আসসালামু আলাইকুম, ভাই' টেক্সট করেছেন। ৩ আগস্টে আবারও সালাম দিয়ে নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের 'ছোট ভাই' হিসেবে পরিচয় দেন। এরপর ২০১৯ সালের ৩১ জানুয়ারি আবারও সালাম দিয়ে নিজেকে হলের 'ছোট ভাই' হিসেবে পরিচয় দেন। তবে এসব টেক্সটের কোনো উত্তর দেননি গোলাম রাব্বানী।
এ পোস্টের কমেন্টে স্ক্রিনশটটি দিয়ে গোলাম রাব্বানী লিখেছেন, 'যেহেতু আমার বিশ্ববিদ্যালয় ও হলের ছোটভাই হিসেবে পরিচয় দিয়েছে, ফান্ডে রেখে আসা ৩ লাখ টাকাও খরচ করুক। আমি আর কোনো দাবি রাখলাম না।'
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনা বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে। ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের এই অভিযোগের মাধ্যমে সাদিক কায়েমের অতীত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অন্যদিকে, গোলাম রাব্বানীর প্রতিক্রিয়া থেকে বোঝা যায়, ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ সম্পর্কও জটিলতা প্রকাশ পেয়েছে।
এই বিতর্কের প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা নিম্নলিখিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করছেন:
- ছাত্র রাজনীতিতে ব্যক্তিগত যোগাযোগের ভূমিকা
- অতীত কর্মকাণ্ড বর্তমান অবস্থানের ওপর প্রভাব
- সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে তথ্য প্রকাশের রাজনৈতিক প্রভাব
এই ঘটনা সাদিক কায়েমের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান এবং ডাকসুর ভিপি হিসেবে তার ভূমিকা নিয়ে নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে। শিক্ষাঙ্গনে এই ধরনের অভিযোগ প্রায়ই রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশ হিসেবে দেখা যায়, যা বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতির একটি সাধারণ দৃশ্য।



